১/৮২. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১৮ - মহা শাফা‘আত
জান্নাতবাসীর সর্বনিম্ন স্তর।
মহা শাফা‘আত: কিয়ামতে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সুপারিশের হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১১৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১৮
حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَجْمَعُ اللهُ النَّاسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقولُونَ لَوِ اسْتَشْفَعْنَا عَلَى رَبِّنَا حَتَّى يُرِيحَنَا مِنْ مَكَانِنَا فَيَأْتُونَ آدَمَ فَيَقُولُونَ: أَنْتَ الَّذِي خَلَقَكَ اللهُ بِيَدِهِ، وَنَفَخَ فِيكَ مِنْ رُوحِهِ، وَأَمَرَ الْمَلاَئِكَةَ فَسَجَدُوا لَكَ، فَاشْفَعْ لَنَا عِنْدَ رَبِّنَا؛ فَيَقُولُ: لَسْتُ هُنَاكُمْ، وَيَذْكُرُ خَطِيئَتَهُ، وَيَقولُ ائْتُوا نُوحًا، أَوَّلَ رَسُولٍ بَعَثَهُ اللهُ فَيَأْتُونَهُ فَيَقُولُ: لَسْتُ هُنَاكُمْ، وَيَذْكُرُ خَطِيئَتَهُ، ائْتُوا إِبْرَاهِيمَ الَّذِي اتَّخَذَهُ اللهُ خَلِيلاً،فَيَأْتُونَهُ فَيَقُولُ لَسْتُ هُنَاكُمْ، وَيَذْكُرُ خَطِيئَتَهُ، ائْتَوا مُوسَى الَّذِي كَلَّمَهُ اللهُ؛ فَيَأْتُونَه فَيَقُولُ لَسْتُ هُنَاكُمْ، فَيَذْكُرُ خَطِيئَتَهُ، ائْتُوا عِيسَى، فَيَأْتُونَهُ فَيَقُولُ لَسْتُ هُنَاكُمْ، ائْتُوا مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ فَيَأْتُونِي، فَأَسْتأْذِنُ عَلَى رَبِّي، فَإِذَا رَأَيْتُهُ وَقَعْتُ سَاجدًا، فَيَدَعُنِي مَا شَاءَ اللهُ، ثُمَّ يُقَالُ ارْفَعْ رَأْسَكَ، سَلْ تُعْطَهْ، وَقُلْ يُسمَعْ، وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ فَأَرْفَعُ رَأْسِي فَأَحْمَدُ رَبِّي بِتَحْمِيدٍ يُعَلِّمُنِي؛ ثُمَّ أَشْفَعُ فَيَحُدُّ لِي حَدًّا، ثُمَّ أُخْرِجُهُمْ مِنَ النَّارِ وَأُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ؛ ثُمَّ أَعُودُ فَأَقَعُ سَاجِدًا مِثْلَهُ فِي الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ حَتَّى مَا يَبْقَى فِي النَّارِ إِلاَّ مَنْ حَبَسَهُ الْقُرْآنُ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা‘আলা সমস্ত মানুষকে একত্রিত করবেন। তখন তারা বলবে, আমাদের জন্য আমাদের রবের কাছে যদি কেউ শাফা‘আত করত, যা এ স্থান থেকে আমাদের উদ্ধার করত। তখন তারা সকলেই আদাম (আঃ)-এর কাছে এসে বলবে, আপনি ঐ ব্যক্তি যাঁকে আল্লাহ্ তা‘আলা স্বহস্তে সৃষ্টি করেছেন। আপনার মাঝে নিজে থেকে রূহ্ ফুঁকে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদেরকে হুকুম করেছেন, তাঁরা আপনাকে সিজদা করেছে। অতঃপর আপনি আমাদের জন্য আমাদের প্রভুর কাছে শাফা‘আত করুন। তখন তিনি বলবেনঃ আমি তোমাদের জন্য এ কাজের উপযোগী নই এবং স্বীয় অপরাধের কথা উল্লেখ করবেন। এরপর বলবেন, তোমরা নূহ (আঃ)-এর কাছে চলে যাও যাকে আল্লাহ্ তা‘আলা প্রথম রাসূল হিসাবে প্রেরণ করেছেন।তখন তারা তাঁর কাছে আসবে। তিনিও স্বীয় অপরাধের কথা উল্লেখ করে বলবেনঃ আমি তোমাদের জন্য এ কাজের উপযোগী নই। তোমরা ইব্রাহীমের কাছে চলে যাও, যাঁকে আল্লাহ্ তা‘আলা খলীলরূপে গ্রহণ করেছেন। অতঃপর তারা তাঁর কাছে আসবে। তিনিও স্বীয় অপরাধের কথা উল্লেখ করে বলবেনঃ আমি তোমাদের এ কাজের উপযোগী নই। তোমরা মূসা (আঃ)-এর কাছে চলে যাও, যার সঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা কথা বলেছেন।তখন তারা তাঁর কাছে আসবে। তিনিও বলবেনঃ আমি তোমাদের জন্য এ কাজের উপযোগী নই। এবং স্বীয় অপরাধের কথা উল্লেখ করবেন। তিনি বলবেনঃ তোমরা ‘ঈসা (আঃ)-এর কাছে চলে যাও। তারা তাঁর কাছে আসবে। তখন তিনিও বলবেনঃ আমি তোমাদের জন্য এ কাজের উপযোগী নই। তোমরা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর কাছে চলে যাও। তাঁর পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।তখন তারা সকলেই আমার কাছে আসবে। তখন আমি আমার রবের কাছে অনুমতি চাইব। যখনই আমি আল্লাহ্ তা‘আলাকে দেখতে পাব তখন সিজদায় পড়ে যাব। আল্লাহ্ তা‘আলার যতক্ষণ ইচ্ছে আমাকে এ অবস্থায় রাখবেন। এরপর আমাকে বলা হবে, তোমার মাথা উঠাও। তুমি চাও, তোমাকে দেয়া হবে। বল, তোমার কথা শ্রবণ করা হবে। শাফা‘আত কর, তোমার মাথা উঠাও। সাওয়াল কর; তোমাকে দেয়া হবে। বল, তোমার কথা শ্রবণ করা হবে। শাফা‘আত কর, তোমার শাফা‘আত কবুল করা হবে।তখন আমি মাথা উত্তোলন করব এবং আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে যে প্রশংসার বাণী শিক্ষা দিয়েছেন তার মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করব। এরপর আমি সুপারিশ করব, তখন আমার জন্য সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে বেহেশ্তে প্রবেশ করিয়ে দেব। এরপর আমি পূর্বের ন্যায় পুনঃ তৃতীয়বার অথবা চতুর্থবার সিজদায় পড়ে যাব। অবশেষে কোরআনের বাণী মুতাবিক যারা অবধারিত জাহান্নামী তাদের ব্যতীত আর কেউই জাহান্নামে অবশিষ্ট থাকবে না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮১: সদয় হওয়া, অধ্যায় ৫১, হাঃ ৬৫৬৫; মুসলিম, ‘পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ৮৪, হাঃ ১৯৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১৮-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: শাফা‘আত। এই হাদিসে কিয়ামতের দিন মানুষের উদ্বেগের কথা এসেছে। তারা এমন কারো খোঁজ করবে, যিনি আল্লাহর কাছে তাদের জন্য শাফা‘আত করবেন। তারা আদম, নূহ, ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসা (আ.)-এর কাছে যাবে। প্রত্যেকে নিজের কারণ উল্লেখ করে বলবেন, তারা এই কাজের উপযোগী নন, এবং শেষে সবাই মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আসবে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর রবের কাছে অনুমতি চাইবেন, আল্লাহকে দেখে সিজদায় পড়বেন এবং আল্লাহ যতক্ষণ ইচ্ছা রাখবেন। এরপর তাঁকে বলা হবে—মাথা উঠাও, চাও দেওয়া হবে, বল শোনা হবে, শাফা‘আত কর গ্রহণ করা হবে। তিনি প্রশংসা করবেন, শাফা‘আত করবেন এবং নির্ধারিত সীমার লোকদের জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শাফা‘আত আল্লাহর অনুমতি ছাড়া হবে না।
- নবীগণ নিজেদের অবস্থার কারণে মানুষকে পরের নবীর কাছে পাঠাবেন।
- মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم)-এর শাফা‘আত উম্মতের জন্য বড় আশা হিসেবে বর্ণিত।
