৩৩/১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১৯৩ - খিলাফত ও নেতৃত্বে কুরাইশের অবস্থান
মানুষদের উপর কুরাইশদের প্রাধান্য এবং খিলাফত বা প্রতিনিধিত্ব হবে কুরাইশদের মধ্যে থেকে।
কুরাইশের নেতৃত্ব হাদিস: খিলাফত ও আনুগত্যের বর্ণনা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১১৯৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১৯৩
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: النَّاسُ تَبعٌ لِقُرَيْشٍ فِي هذَا الشَّأْنِ، مُسْلِمُهُمْ تَبَعٌ لِمُسْلِمِهِم، وَكَافِرُهُمْ تَبَعٌ لِكَافِرِهِمْ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, খিলাফত ও নেতৃত্বের ব্যাপারে সকলেই কুরাইশের অনুগত থাকবে। মুসলিমগণ তাদের মুসলিমদের এবং কাফিররা তাদের কাফিরদের অনুগত।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬১; মর্যাদা ও গুণাবলী, অধ্যায় ১, হাঃ ৩৪৯৫; মুসলিম, পর্ব ৩৩: ইমারাত বা নেতৃত্ব, অধ্যায় ১, হাঃ ১৮১৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো খিলাফত ও নেতৃত্বে কুরাইশের অবস্থান। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, এই বিষয়—অর্থাৎ খিলাফত ও নেতৃত্বের ব্যাপারে মানুষ কুরাইশের অনুগত থাকবে। মুসলিমরা তাদের মুসলিমদের অনুগত থাকবে, আর কাফিররা তাদের কাফিরদের অনুগত থাকবে। বর্ণনাটি খুব নির্দিষ্ট। তাই এর ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত রাজনৈতিক মত বা বর্তমান সময়ের কোনো দাবি যোগ করা ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, নবী (صلى الله عليه وسلم) নেতৃত্বের একটি বিশেষ বিষয় কুরাইশের সঙ্গে সম্পর্কিত করে বলেছেন। এই কুরাইশের নেতৃত্ব হাদিস বুঝতে হলে হাদিসের ভাষা ও সীমা মানা জরুরি। এখানে “খিলাফত”, “নেতৃত্ব”, “কুরাইশ” এবং “আনুগত্য” শব্দগুলোই মূল আলোচ্য বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) নেতৃত্বের বিষয়টি কুরাইশের সঙ্গে সম্পর্কিত করে বলেছেন।
- মুসলিম ও কাফির—দুই পক্ষের অনুসরণের কথা আলাদা করে এসেছে।
- হাদিসের সীমা ছাড়িয়ে বর্তমান দাবি তৈরি করা সতর্কতার বিষয়।
- খিলাফত বিষয়ক বর্ণনা বুঝতে হাদিসের ভাষা মেনে চলা দরকার।
