৩৩/১৯. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২১৭ - বেদুঈন জীবন ও রাসূলের অনুমতি
মুহাজিরীনদের তাদের পূর্বের বাসস্থানে বসতি স্থাপন হারাম।
বেদুঈন জীবন যাপন: রাসূলের অনুমতির আলোকে সালামাহর জবাব
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২১৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২১৭
حديث سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى الْحَجَّاجِ، فَقَالَ: يَا ابْنَ الأَكْوَعِ ارْتَدَدْتَ عَلَى عَقِبَيْكَ، تَعَرَّبْتَ قَالَ: لاَ، وَلكِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَذِنَ لِي فِي الْبَدْو
সালামাহ ইবনুল আকওয়া‘ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার সালামাহ (রাঃ) হাজ্জাজের কাছে গেলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, হে ইব্নু আক্ওয়া‘! আপনি সাবেক অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করলেন না কি যে বেদুঈন সুলভ জীবন যাপন করতে শুরু করেছেন? তিনি বললেন, না। বরং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বেদুঈন সুলভ জীবন যাপনের অনুমতি প্রদান করেছেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯২: ফিতনা, অধ্যায় ১৪, হাঃ ৭০৮৭; মুসলিম, পূর্ব ৩৩: ইমারাত বা নেতৃত্ব, অধ্যায় ১৯, হাঃ ১৮৬২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২১৭-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: অনুমতি। এই হাদিসে হাজ্জাজ সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেন, তিনি কি আগের অবস্থায় ফিরে গেছেন যে বেদুঈন সুলভ জীবন শুরু করেছেন? সালামাহ (রাঃ) জবাব দেন, না; বরং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বাদিয়ায় থাকার অনুমতি দিয়েছেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, বাহ্যিক অবস্থা দেখে দ্রুত দোষারোপ করা ঠিক নয়। কোনো কাজের পেছনে শরীয়তসম্মত অনুমতি থাকতে পারে। এই হাদিস হিজরাত-পরবর্তী অবস্থান, বাদিয়ায় থাকা, এবং রাসূলের অনুমতির বিষয়টি সামনে আনে। তবে হাদিসে শুধু সালামাহ (রাঃ)-এর ব্যক্তিগত অনুমতির কথা এসেছে; তাই এটিকে সবার জন্য আলাদা সাধারণ বিধান বানিয়ে বলা ঠিক হবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কাউকে দেখে তাড়াহুড়া করে দোষারোপ করা ঠিক নয়।
- সালামাহ (রাঃ) নিজের কাজের পক্ষে রাসূলের অনুমতির কথা বলেছেন।
- বাহ্যিক জীবনধারা দেখে ঈমান বা অবস্থান বিচার করা নিরাপদ নয়।
- যে বিষয়ে রাসূলের অনুমতি আছে, সেটি সম্মানের সঙ্গে বুঝতে হয়।
