৩৩/২০. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২১৮ - হিজরাত, ইসলাম ও জিহাদের বাইআত
মক্কা বিজয়ের পর ইসলাম, জিহাদ ও ভালো কাজ করার উপর বাইয়াত গ্রহণ এবং ফতহে মক্কার পর আর কোন হিজরত নেই- এর অর্থের বর্ণনা।
হিজরাতের পর ইসলাম ও জিহাদের বাইআত
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২১৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২১৮
حديث مُجَاشِعِ بْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي مَعْبَدٍ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيّ، عَنْ مُجَاشِعِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: انْطَلَقْتُ بِأَبِي مَعْبَدٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيُبَايِعَهُ عَلَى الْهِجْرَةِ، قَالَ: مَضَتِ الْهِجْرَةُ لأَهْلِهَا، أُبَايِعُهُ عَلَى الإِسْلامِ وَالْجِهَادِ فَلَقِيْتُ أَبَا مَعْبَدٍ، فَسَأَلْتُهُ، فَقَالَ: صَدَقَ مُجَاشِعٌ
মুজাশি‘ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আবূ মা‘বাদ (রাঃ) (মুজালিদ) কে নিয়ে নবী (ﷺ)-এর নিকট গেলাম যেন তিনি তাঁর নিকট হতে হিজরাতের জন্য বাই‘আত গ্রহণ করেন। তখন তিনি (ﷺ) বললেন, হিজরাতকারীদের জন্য হিজরাত অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। আমি তাঁর নিকট হতে ইসলাম ও জিহাদের জন্য বাই‘আত গ্রহণ করব। [বর্ণনাকারী আবূ ‘উসমান নাহদী (রহঃ)] বলেন, এরপর আমি আবূ মা‘বাদ (রাঃ)-এর সাক্ষাৎ করে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন, মুজাশি‘ (রাঃ) সত্যি বলেছেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৪; মাগাযী, অধ্যায় ৫৪, হাঃ ৪৩০৮; মুসলিম, পর্ব ৩৩.: ইমারাত বা নেতৃত্ব, অধ্যায় ২০, হাঃ ১৮৬৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২১৮-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: হিজরাত। মুজাশি‘ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) আবূ মা‘বাদকে নিয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে গেলেন, যেন তিনি হিজরাতের জন্য বাইআত নেন। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, হিজরাতকারীদের জন্য হিজরাত অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। তিনি তার কাছ থেকে ইসলাম ও জিহাদের জন্য বাইআত নেবেন। পরে আবূ উসমান নাহদী আবূ মা‘বাদকে জিজ্ঞেস করলে তিনিও মুজাশি‘ (রাঃ)-এর কথা সত্য বলেন। এই হাদিসে হিজরাত, বাইআত, ইসলাম এবং জিহাদের সম্পর্ক এসেছে। এখানে বোঝা যায়, নির্দিষ্ট হিজরাতের সময় শেষ হলেও ইসলাম গ্রহণ ও আল্লাহর পথে চেষ্টা করার অঙ্গীকার বাকি থাকে। হাদিসের সীমার বাইরে অতিরিক্ত বিধান যোগ না করাই ভালো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হিজরাতকারীদের জন্য নির্দিষ্ট হিজরাত অতিক্রান্ত হওয়ার কথা এসেছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) ইসলাম ও জিহাদের উপর বাইআত গ্রহণের কথা বলেছেন।
- বাইআত পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন বিষয়ে হতে পারে।
- বর্ণনার সত্যতা পরে আবূ মা‘বাদ (রাঃ) নিশ্চিত করেছেন।
