৩৫/৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৮৯ - কুরবানীর গোশত সংরক্ষণের অনুমতি
ইসলামের প্রথম যুগে কুরবানির গোশত তিনদিনের অতিরিক্ত খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল ও সে বিধান রহিত হয়ে যাওয়া এবং তা বৈধ হয়ে যাওয়া যে চায় তার জন্য।
কুরবানীর গোশত সংরক্ষণ: খাও এবং সঞ্চয় করে রাখ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২৮৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২৮৯
حديث جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: كُنَّا لاَ نَأْكُلُ مِنْ لُحُومِ بُدْنِنَا فَوْقَ ثَلاَثِ مِنًى، فَرَخَّصَ لَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: كُلُوا وَتَزَوَّدُوا فَأَكَلْنَا وَتَزَوَّدْنَا
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা আমাদের কুরবানীর গোশত মিনা’র তিন দিনের বেশি খেতাম না। এরপর নবী (ﷺ) আমাদের অনুমতি দিলেন এবং বললেনঃ খাও এবং সঞ্চয় করে রাখ। তাই আমরা খেলাম এবং সঞ্চয়ও করলাম।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৫ : হাজ্জ, অধ্যায় ১২৪, হাঃ ১৭১৯; মুসলিম, পর্ব ৩৫: কুরবানী, অধ্যায় ৫, হাঃ ১৯৭২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরবানীর গোশত সংরক্ষণের অনুমতির কথা এসেছে। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, তাঁরা মিনার তিন দিনের বেশি কুরবানীর পশুর গোশত খেতেন না। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের অনুমতি দিলেন এবং বললেন, খাও এবং সঞ্চয় করে রাখ। ফলে তাঁরা খেলেন এবং সঞ্চয়ও করলেন। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, আগে তাঁদের মধ্যে তিন দিনের সীমা মানার আমল ছিল। পরে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর অনুমতির মাধ্যমে খাওয়া ও সঞ্চয়—দুটিই করা হলো। হাদিসটি কুরবানীর গোশত নিয়ে ভারসাম্যের শিক্ষা দেয়। একদিকে খাওয়ার সুযোগ আছে, অন্যদিকে প্রয়োজনের জন্য রাখা যায়। তবে এই হাদিসের মূল কথা হলো অনুমতি: নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, খাও এবং সঞ্চয় কর। তাই কুরবানীর গোশত সংরক্ষণ নিয়ে কথা বললে এই বর্ণনাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরবানীর গোশত খাওয়ার অনুমতি আছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর অনুমতির পর গোশত সঞ্চয় করা হয়েছে।
- সাহাবীরা নিয়ম পরিবর্তন হলে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ অনুযায়ী আমল করতেন।
- কুরবানীর গোশত ব্যবহারে প্রয়োজনের দিক বিবেচনা করা যায়।
