৩৫/৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৮৮ - কুরবানীর গোশত খাওয়ানো ও তিন দিনের বিধান
ইসলামের প্রথম যুগে কুরবানির গোশত তিনদিনের অতিরিক্ত খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল ও সে বিধান রহিত হয়ে যাওয়া এবং তা বৈধ হয়ে যাওয়া যে চায় তার জন্য।
কুরবানীর গোশত খাওয়ানো: তিন দিনের বিধানের উদ্দেশ্য
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২৮৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২৮৮
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: الضَّحِيَّةُ كُنَّا نُمَلِّحُ مِنْهُ، فَنَقْدَمُ بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَدِينَةِ، فَقَالَ: لاَ تَأْكُلُوا إِلاَّ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَيْسَتْ بِعَزِيمَةٍ، وَلكِنْ أَرَادَ أَنْ يُطْعِمَ مِنْهُ، وَاللهُ أَعْلَمُ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, মাদীনায় অবস্থানের সময় আমরা কুরবানীর গোশ্তের মধ্যে লবণ মিশ্রিত করে রেখে দিতাম। এরপর তা নবী (ﷺ)-এর সামনে পেশ করতাম। তিনি বলতেনঃ তোমরা তিন দিনের পর খাবে না। তবে এটি জরুরী নয়। বরং তিনি চেয়েছেন যে, তা থেকে যেন অন্যদের খাওয়ানো হয়। আল্লাহ অধিক অবগত।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৩: কুরবানী, অধ্যায় ১৬, হাঃ ৫৫৭০; মুসলিম, পর্ব ৩৫: কুরবানী, অধ্যায় ৫, হাঃ ১৯৭১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরবানীর গোশত তিন দিনের বেশি না খাওয়ার বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, তাঁরা কুরবানীর গোশতে লবণ মিশিয়ে রেখে দিতেন এবং পরে তা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে পেশ করতেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলতেন, তোমরা তিন দিনের পর খাবে না। কিন্তু বর্ণনাতেই বলা হয়েছে, এটি কঠোর বাধ্যতামূলক নির্দেশ ছিল না; বরং তিনি চেয়েছিলেন, কুরবানীর গোশত থেকে অন্যদের খাওয়ানো হোক। এখানে কুরবানীর গোশত শুধু ঘরে জমিয়ে রাখার বিষয় নয়, বরং মানুষের মাঝে খাবার পৌঁছে দেওয়ার শিক্ষা আছে। তবে হাদিসে যতটুকু বলা হয়েছে, ততটুকুই বলা নিরাপদ: তিন দিনের সীমার কথা এসেছে এবং তার পেছনে অন্যদের খাওয়ানোর লক্ষ্য ছিল। তাই কুরবানীর গোশত ব্যবহারে নিজের পরিবার, অন্য মানুষ এবং প্রয়োজনের দিক—সবই বিবেচনায় রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরবানীর গোশত থেকে অন্যদের খাওয়ানোর শিক্ষা আছে।
- তিন দিনের সীমার উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে উপকার করা।
- খাবার জমিয়ে রাখার পাশাপাশি ভাগ করে দেওয়ার দিকও ভাবতে হয়।
- হাদিস বুঝতে বর্ণনার ব্যাখ্যামূলক অংশও গুরুত্ব রাখে।
