৩৫/৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৮৭ - কুরবানীর গোশত তিন দিন খাওয়ার বর্ণনা
ইসলামের প্রথম যুগে কুরবানির গোশত তিনদিনের অতিরিক্ত খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল ও সে বিধান রহিত হয়ে যাওয়া এবং তা বৈধ হয়ে যাওয়া যে চায় তার জন্য।
কুরবানীর গোশত তিন দিন: হাদিসের সরল শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২৮৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২৮৭
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كُلُوا مِنَ الأَضَاحِي ثَلاَثًا وَكَانَ عَبْدُ اللهِ يَأْكُلُ بِالزَّيْتِ حِينَ يَنْفِرُ مِنْ مِنًى مِنْ أَجْلِ لُحُومِ الْهَدْيِ
আব্দল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কুরবানীর গোশ্ত তোমরা তিন দিন পর্যন্ত খাও। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) মিনা থেকে প্রত্যাবর্তনকালে কুরবানীর গোশ্ত থেকে বিরত থাকার কারণে যায়তুন খাদ্য গ্রহণ করতেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৩: কুরবানী, অধ্যায় ১৬, হাঃ ৫৫৭৪; মুসলিম, পর্ব ৩৫: কুরবানী, অধ্যায় ৫ হাঃ ১৯৭০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কুরবানীর গোশত তিন দিন খাওয়া। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কুরবানীর গোশত তোমরা তিন দিন পর্যন্ত খাও। বর্ণনায় আরও এসেছে, আবদুল্লাহ (রাঃ) মিনা থেকে ফিরে আসার সময় কুরবানীর গোশত থেকে বিরত থাকার কারণে যায়তুন দিয়ে খাবার গ্রহণ করতেন। হাদিসটি খুব সংক্ষিপ্ত, তাই এর বাইরে বাড়তি দাবি করা ঠিক নয়। এখানে যে বিষয়টি সরাসরি বোঝা যায়, তা হলো কুরবানীর গোশত খাওয়ার বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের কথা বর্ণিত হয়েছে। সাহাবীর আমল থেকেও বোঝা যায়, তিনি এই নির্দেশকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছেন। কুরবানীর গোশত শুধু নিজের খাওয়ার বিষয় নয়; অন্যান্য হাদিসে খাওয়ানো ও সঞ্চয়ের কথাও এসেছে। তবে এই হাদিসে বিশেষভাবে তিন দিনের সীমার কথা এবং আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সতর্ক আমল উল্লেখ করা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরবানীর গোশত খাওয়ার বিষয়ে তিন দিনের কথা হাদিসে এসেছে।
- সাহাবীরা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশকে গুরুত্ব দিয়ে মানতেন।
- খাবারের বিষয়ে ধর্মীয় নির্দেশ থাকলে তা হালকা করে দেখা ঠিক নয়।
- হাদিসের সীমার বাইরে অতিরিক্ত দাবি করা উচিত নয়।
