৩৫/৪. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৮৬ - গনীমত বণ্টন ও যবেহের শৃঙ্খলা

রক্ত প্রবাহিত করে এমন বস্তু দিয়ে যবহ করা জায়িজ তবে দাঁত, নখ ও হাড় ব্যতীত।

গনীমত বণ্টন ও যবেহের নিয়ম: শৃঙ্খলার শিক্ষা

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২৮৬

حديث رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِذِي الْحُلَيْفَةِ، فَأَصَابَ النَّاسَ جُوعٌ، فَأَصَابُوا إِبِلاً وَغَنَمًا، قَالَ: وَكَانَ النَّبِيُّ فِي أُخْرَيَاتِ الْقَوْمِ، فَعَجِلوا وَذَبَحُوا وَنَصَبُوا الْقُدُورَ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَالْقُدُورِ فَأُكْفِئَتْ، ثُمَّ قَسَمَ، فَعَدَلَ عَشَرَةً مِنَ الْغَنَمِ بِبَعِيرٍ، فَنَدَّ مِنْهَا بَعِيرٌ، فَطَلَبُوهُ فَأَعْيَاهُمْ وَكَانَ فِي الْقَوْمِ خَيْلٌ يَسِيرَةٌ فَأَهْوَى رَجُلٌ مِنْهُمْ بِسَهْمٍ، فَحَبَسَهُ اللهُ ثُمَّ قَالَ: إِنَّ لِهذِهِ الْبَهَائِمِ أَوَابِدَ كَأَوَابِدِ الْوَحْشِ، فَمَا غَلَبَكُمْ مِنْهَا فَاصْنَعُوا بِهِ هكَذَاقُلْتُ: إِنَّا نَرْجُو أَوْ نَخَافُ الْعَدُوَّ غَدًا، وَلَيْسَتْ مُدًى، أَفَنَذْبَحُ بِالْقَصَبِ قَالَ: مَا أَنْهَرَ الدَّمَ وَذُكِرَ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ، فَكُلُوهُ، لَيْسَ السِّنَّ وَالظُّفُرَ، وَسَأُحَدِّثُكُمْ عنْ ذلِكَ أَمَّا السِّنُّ فَعَظْمٌ، وَأَمَّا الظُّفُرُ فَمُدَى الْحَبَشَةِ

রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে যুল-হুলায়ফাতে ছিলাম। সাহাবীগণ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন, তাঁরা কিছু উট ও বকরী পেলেন। রাফি‘ (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) দলের পিছনে ছিলেন। তাঁরা তাড়াহুড়া করে গনীমতের মাল বণ্টনের পূর্বে সেগুলোকে যবহ করে পাত্রে চড়িয়ে দিলেন। তারপর নবী (ﷺ) -এর নির্দেশে পাত্র উলটিয়ে ফেলা হল। তারপর তিনি (গনীমতের মাল) বণ্টন শুরু করলেন। তিনি একটি উটের সমান দশটি বকরী নির্ধারণ করেন।হঠাৎ একটি উট পালিয়ে গেল। সাহাবীগণ উটকে ধরার জন্য ছুটলেন, কিন্তু উটটি তাঁদেরকে ক্লান্ত করে ছাড়ল। সে সময় তাঁদের নিকট অল্প সংখ্যক ঘোড়া ছিল। অবশেষে তাঁদের মধ্যে একজন সেটির প্রতি তীর ছুঁড়লেন। তখন আল্লাহ উটটিকে থামিয়ে দিলেন। তারপর নবী (ﷺ) বললেন, নিশ্চয়ই পলায়নপর বন্য জন্তুদের মতো এ সকল চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে কতক পলায়নপর হয়ে থাকে। কাজেই যদি এসব জন্তুর কোনটা তোমাদের উপর প্রবল হয়ে উঠে তবে তার সাথে এরূপ করবে।আমি (রাফি‘) বললাম, আমরা আশঙ্কা করছি যে, কাল শত্রুর সাথে মুকাবিলা হবে। আর আমাদের নিকট কোন ছুরি নেই। তাই আমরা ধারালো বাঁশ দিয়ে যবেহ করতে পারব কি? নবী (ﷺ) বললেন, যে বস্তু রক্ত প্রবাহিত করে এবং যার উপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়, সেটা তোমরা আহার করতে পার। কিন্তু দাঁত বা নখ দিয়ে যেন যবেহ না করা হয়। আমি তোমাদেরকে এর কারণ বলে দিচ্ছি। দাঁত তো হাড় আর নখ হলো হাবশীদের ছুরি।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪৭; অংশীদারিত্ব, অধ্যায় ৩, হাঃ ২৪৮৮; মুসলিম, পর্ব ৩৫: কুরবানী, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৯৬৮

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৮৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে একসঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে। সাহাবীগণ যুল-হুলায়ফাতে ক্ষুধার্ত হন এবং কিছু উট ও বকরী পান। নবী (صلى الله عليه وسلم) তখন দলের পিছনে ছিলেন। কিছু সাহাবী তাড়াহুড়ো করে গনীমতের মাল বণ্টনের আগে পশু যবেহ করে পাত্রে রান্না বসিয়ে দেন। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশে সেই পাত্রগুলো উল্টে ফেলা হয়। এরপর তিনি গনীমতের মাল বণ্টন করেন এবং একটি উটের সমান দশটি বকরী নির্ধারণ করেন। পরে একটি উট পালিয়ে গেলে সেটিকে তীরের মাধ্যমে আটকানো হয়। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, এসব পশুর মধ্যে কখনও বন্য জন্তুর মতো পালানোর স্বভাব থাকে; তাই এমন হলে এভাবে করা যায়। হাদিসের শেষে যবেহের নিয়মও আসে: যে বস্তু রক্ত প্রবাহিত করে এবং যার উপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, তা খাওয়া যায়; কিন্তু দাঁত ও নখ দিয়ে নয়। তাই এখানে গনীমত, বণ্টন, যবেহ ও শৃঙ্খলা—সবকিছুর সরল শিক্ষা আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • গনীমতের মাল বণ্টনের আগে নিজে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
  • প্রয়োজন থাকলেও শৃঙ্খলা ভাঙা যাবে না।
  • যবেহে রক্ত প্রবাহ ও আল্লাহর নাম নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
  • দাঁত ও নখ দিয়ে যবেহ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন