৪৭/৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪৮৮ - যবেহের নিয়ম ও গনীমতের শৃঙ্খলা
ছাগল ও ভেড়া ভাগ করা
যবেহের নিয়ম: আল্লাহর নামে রক্ত প্রবাহিত করার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৪৮৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৪৮৮
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَكَمِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ بِذِي الْحُلَيْفَةِ فَأَصَابَ النَّاسَ جُوعٌ فَأَصَابُوا إِبِلاً وَغَنَمًا. قَالَ وَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ فِي أُخْرَيَاتِ الْقَوْمِ فَعَجِلُوا وَذَبَحُوا وَنَصَبُوا الْقُدُورَ، فَأَمَرَ النَّبِيُّ ﷺ بِالْقُدُورِ فَأُكْفِئَتْ، ثُمَّ قَسَمَ فَعَدَلَ عَشْرَةً مِنَ الْغَنَمِ بِبَعِيرٍ فَنَدَّ مِنْهَا بَعِيرٌ، فَطَلَبُوهُ فَأَعْيَاهُمْ، وَكَانَ فِي الْقَوْمِ خَيْلٌ يَسِيرَةٌ فَأَهْوَى رَجُلٌ مِنْهُمْ بِسَهْمٍ فَحَبَسَهُ اللَّهُ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ لِهَذِهِ الْبَهَائِمِ أَوَابِدَ كَأَوَابِدِ الْوَحْشِ فَمَا غَلَبَكُمْ مِنْهَا فَاصْنَعُوا بِهِ هَكَذَا ". فَقَالَ جَدِّي إِنَّا نَرْجُو ـ أَوْ نَخَافُ ـ الْعَدُوَّ غَدًا، وَلَيْسَتْ مَعَنَا مُدًى أَفَنَذْبَحُ بِالْقَصَبِ. قَالَ " مَا أَنْهَرَ الدَّمَ وَذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ، فَكُلُوهُ، لَيْسَ السِّنَّ وَالظُّفُرَ، وَسَأُحَدِّثُكُمْ عَنْ ذَلِكَ، أَمَّا السِّنُّ فَعَظْمٌ وَأَمَّا الظُّفُرُ فَمُدَى الْحَبَشَةِ ".
রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে যুল-হুলায়ফাতে ছিলাম। সাহাবীগণ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন, তাঁরা কিছু উট ও বকরী পেলেন। রাফী‘ (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) দলের পিছনে ছিলেন। তাঁরা তাড়াহুড়া করে গনীমতের মাল বণ্টনের পূর্বে সেগুলোকে যবেহ করে পাত্রে চড়িয়ে দিলেন। তারপর নবী (ﷺ)-এর নির্দেশে পাত্র উলটিয়ে ফেলা হল। তারপর তিনি (গনীমতের মাল) বণ্টন শুরু করলেন। তিনি একটি উটের সমান দশটি বকরী নির্ধারণ করেন।হঠাৎ একটি উট পালিয়ে গেল। সাহাবীগণ উটকে ধরার জন্য ছুটলেন, কিন্তু উটটি তাঁদেরকে ক্লান্ত করে ছাড়ল। সে সময় তাঁদের নিকট অল্প সংখ্যক ঘোড়া ছিল। অবশেষে তাঁদের মধ্যে একজন সেটির প্রতি তীর ছুড়লেন। তখন আল্লাহ উটটাকে থামিয়ে দিলেন। তারপর নবী (ﷺ) বললেন, নিশ্চয়ই পলায়নপর বন্য জন্তুদের মতো এ সকল চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে কতক পলায়নপর হয়ে থাকে। কাজেই যদি এসব জন্তুর কোনটা তোমাদের উপর প্রবল হয়ে উঠে তবে তার সাথে এরূপ করবে।(রাবী বলেন), তখন আমার দাদা [রাফি‘ (রাঃ)] বললেন, আমরা আশঙ্কা করছি যে, কাল শত্রুর সাথে মুকাবিলা হবে। আর আমাদের নিকট কোন ছুরি নেই। তাই আমরা ধারাল বাঁশ দিয়ে যবেহ করতে পারব কি? নবী (ﷺ) বললেন, যে বস্তু রক্ত প্রবাহিত করে এবং যার উপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়, সেটা তোমরা আহার করতে পার। কিন্তু দাঁত বা নখ দিয়ে যেন যবেহ না করা হয়। আমি তোমাদেরকে এর কারণ বলে দিচ্ছি। দাঁত তো হাড় আর নখ হল হাবশীদের ছুরি।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আছে। সাহাবীরা ক্ষুধার্ত হয়ে কিছু উট ও বকরী পেয়ে নবীজি صلى الله عليه وسلم আসার আগে তাড়াহুড়া করে যবেহ করেন এবং পাত্রে চড়ান। কিন্তু গনীমতের মাল বণ্টনের আগে এমন করা ঠিক হয়নি, তাই নবীজি صلى الله عليه وسلم পাত্র উলটিয়ে দিতে নির্দেশ দেন। এরপর তিনি বণ্টন করেন এবং একটি উটের সমান দশটি বকরী নির্ধারণ করেন। পরে একটি উট পালিয়ে গেলে একজন তীর ছুড়ে সেটিকে থামায়। নবীজি صلى الله عليه وسلم বলেন, চতুস্পদ জন্তুর মধ্যেও কিছু পলায়নপর হতে পারে; এমন হলে এভাবে করা যায়। এরপর যবেহের বিষয়ে তিনি বলেন, যে বস্তু রক্ত প্রবাহিত করে এবং যার উপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, তা খাওয়া যায়; তবে দাঁত ও নখ দিয়ে নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গনীমতের মাল ভাগের আগে নিজে থেকে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
- যবেহের সময় আল্লাহর নাম নেওয়া এবং রক্ত প্রবাহিত হওয়া শর্ত হিসেবে এসেছে।
- দাঁত ও নখ দিয়ে যবেহ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
- পালানো পশু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন হলে হাদিসে দেখানো পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়।
