৩৬/৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৯৫ - নবীয তৈরির নিয়ম ও পৃথক ভিজানো
পাকা খেজুর ও কিশমিশ একত্র করে নাবিজ বানানো মাকরূহ।
নবীয তৈরির নিয়ম: মিশ্রণ নয়, আলাদা ভিজানো
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২৯৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২৯৫
حديث أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ: نَهى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنْ يَجْمَعَ بَيْنَ التَّمْرِ وَالزَّهْوِ، وَالتَّمْر وَالزَّبِيبِ، وَلْيُنْبَذْ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَلَى حِدَةٍ
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) খুরমা ও আধাপাকা খেজুর এবং খুরমা ও কিসমিস একত্রিত করতে নিষেধ করেছেন। আর এগুলো প্রত্যেকটিকে পৃথক পৃথকভাবে ভিজিয়ে ‘নবীয’ তৈরি করা যাবে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৪ : পানীয়, অধ্যায় ১১, হাঃ ৫৬০২; মুসলিম, পর্ব ৩৬ : পানীয়, অধ্যায় ৫, হাঃ ১৯৮৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবীয তৈরির নিয়ম আরও পরিষ্কারভাবে এসেছে। আবূ কাতাদাহ (রাঃ) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) খুরমা ও আধাপাকা খেজুর একত্র করা এবং খুরমা ও কিসমিস একত্র করা নিষেধ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এগুলোর প্রত্যেকটিকে আলাদা আলাদাভাবে ভিজিয়ে নবীয তৈরি করা যাবে। তাই এই হাদিস শুধু নিষেধের কথা বলে না, বরং একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিও জানায়। অর্থাৎ সমস্যা মূলে আলাদা ফল ভিজানো নয়; সমস্যা হলো নির্দিষ্ট কিছু জিনিস একসঙ্গে মেশানো। হাদিসটি নবীয, খেজুর, কিসমিস এবং পানীয় তৈরির নিয়ম বুঝতে খুব সরল ও কার্যকর। এখানে আমাদের বাড়তি কথা যোগ করার দরকার নেই। যেটা বলা হয়েছে, সেটাই মূল শিক্ষা: খুরমা-আধাপাকা খেজুর বা খুরমা-কিসমিস একত্রে নয়; আলাদা আলাদা ভিজিয়ে তৈরি করা যাবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খুরমা ও আধাপাকা খেজুর একসঙ্গে মেশাতে নিষেধ করা হয়েছে।
- খুরমা ও কিসমিস একত্র করতেও নিষেধ এসেছে।
- প্রত্যেকটি আলাদাভাবে ভিজিয়ে নবীয তৈরি করা যাবে।
- নিষেধের পাশাপাশি বৈধ পদ্ধতিও হাদিসে জানানো হয়েছে।
