১১/৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯৮৮ - কবরের পরীক্ষা ও গ্রহণের সালাত

সুর্যগ্রহণের সলাতে নাবী (ﷺ)-এর নিকট জান্নাত ও জাহান্নামের যা কিছু উত্থাপন করা হয়েছে

কবরের পরীক্ষা ও সূর্যগ্রহণের সালাত

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৯৮৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ فَاطِمَةَ، عَنْ أَسْمَاءَ، قَالَتْ خَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَدَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ وَهِيَ تُصَلِّي فَقُلْتُ مَا شَأْنُ النَّاسِ يُصَلُّونَ فَأَشَارَتْ بِرَأْسِهَا إِلَى السَّمَاءِ فَقُلْتُ آيَةٌ قَالَتْ نَعَمْ. فَأَطَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْقِيَامَ جِدًّا حَتَّى تَجَلاَّنِي الْغَشْىُ فَأَخَذْتُ قِرْبَةً مِنْ مَاءٍ إِلَى جَنْبِي فَجَعَلْتُ أَصُبُّ عَلَى رَأْسِي أَوْ عَلَى وَجْهِي مِنَ الْمَاءِ - قَالَتْ - فَانْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَقَدْ تَجَلَّتِ الشَّمْسُ فَخَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ النَّاسَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ مَا مِنْ شَىْءٍ لَمْ أَكُنْ رَأَيْتُهُ إِلاَّ قَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي هَذَا حَتَّى الْجَنَّةَ وَالنَّارَ وَإِنَّهُ قَدْ أُوحِيَ إِلَىَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ قَرِيبًا أَوْ مِثْلَ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ - لاَ أَدْرِي أَىَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ - فَيُؤْتَى أَحَدُكُمْ فَيُقَالُ مَا عِلْمُكَ بِهَذَا الرَّجُلِ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ أَوِ الْمُوقِنُ - لاَ أَدْرِي أَىَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ - فَيَقُولُ هُوَ مُحَمَّدٌ هُوَ رَسُولُ اللَّهِ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى فَأَجَبْنَا وَأَطَعْنَا. ثَلاَثَ مِرَارٍ فَيُقَالُ لَهُ نَمْ قَدْ كُنَّا نَعْلَمُ إِنَّكَ لَتُؤْمِنُ بِهِ فَنَمْ صَالِحًا وَأَمَّا الْمُنَافِقُ أَوِ الْمُرْتَابُ - لاَ أَدْرِي أَىَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ - فَيَقُولُ لاَ أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُ " .

আসমা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগে। তখন আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে দেখি তিনি সালাত আদায় করছেন। আমি বললাম কি ব্যাপার! লোকেরা সালাত আদায় করছে? ‘আয়িশাহ (রাঃ) মাথা নেড়ে আসমানের দিকে ইশারা করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, একি বিশেষ কোন ঘটনা? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এদিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এত লম্বা ক্বিয়াম করলেন যে, আমার মাথার চক্কর এসে গেল। তখন আমি আমার পাশে রাখা পানির মশক নিয়ে আমার মাথায় অথবা চেহারায় পানি ঢালতে আরম্ভ করলাম। আস্‌মা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাত শেষ করার সাথে সাথে সূর্য উজ্জ্বল হয়ে গেল।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের উদ্দেশ্যে খুত্‌বাহ্‌ দিলেন। আল্লাহর হাম্‌দ ও নাত আদায় করার পর তিনি বললেন, ‘আম্মাবা’দ, যে সব বস্তু আমি ইতিপূর্বে দেখিনি তা আমি আমার এ স্থানে দাঁড়িয়ে দেখতে পেলাম। এমনকি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখলাম। আর এ মুহূর্তে আমার নিকট অবতীর্ণ করা হয়েছে যে, অচিরেই তোমরা ক্ববরে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। অথবা বলেছেন, মাসীহ দাজ্জালের ফিৎনার ন্যায় ফিৎনায় পতিত হবে। (রাবী বলেন,) আমার জানা নেই আস্‌মা এর কোনটা বলেছে।এরপর তোমাদের প্রত্যেককে হাজির করে জিজ্ঞেস করা হবে “এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা কি জানা আছে?” এ সময় ঈমানদার ব্যক্তি অথবা বলেছে ‘মু’মিন’ দৃঢ় বিশ্বাসী ব্যক্তি (আমার জানা নেই আস্‌মা এর কোনটা বলেছেন) বলবে, ইনি মুহাম্মাদ (ﷺ), ইনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। তিনি (ﷺ) সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াতের বিষয়বস্তু নিয়ে এসেছেন। তাই আমরা তাঁর আহবানে সাড়া দিয়েছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি। তিনবার সে এ কথা উচ্চারণ করবে। তখন তাকে বলা হবে। ঘুমাও, আমরা জানতাম তুমি তাঁর প্রতি ঈমান বজায় রেখেছো। ভালরূপে ঘুমাও। কিন্তু মুনাফিক্ব অথবা ‘মুরতাদ’ (সংশয়বাদী আমার জানা নেই আস্‌মা এর কোনটা বলেছেন) বলবে, আমি তো কিছু জানি না। লোকদের কিছু বলাবলি করতে শুনেছি আমিও তা-ই বলেছি।

ই.ফা. ১৯৭২, ই.সে. ১৯৭৯

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯৮৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সালাতের সঙ্গে কবরের পরীক্ষা, ঈমান এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর অনুসরণের বড় শিক্ষা আছে। আসমা (রাঃ) দেখলেন, আয়িশা (রাঃ) সালাত আদায় করছেন এবং লোকেরাও সালাতে দাঁড়িয়ে আছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) এত দীর্ঘ কিয়াম করলেন যে আসমা (রাঃ)-এর মাথা ঘুরে যাওয়ার মতো অবস্থা হলো। সালাত শেষে সূর্য পরিষ্কার হয়ে গেলে নবী (صلى الله عليه وسلم) খুতবা দিলেন। তিনি জানালেন, তিনি এই স্থানে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেছেন। এরপর তিনি কবরের পরীক্ষার কথা বললেন। মুমিন ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে চিনবে, তাঁর রিসালাত, প্রমাণ এবং হিদায়াতের কথা বলবে। আর মুনাফিক বা সন্দেহকারী বলবে, সে লোকদের বলতে শুনেছে, তাই সেও বলেছে। এই হাদিস শেখায়, মুখের কথা নয়; দৃঢ় ঈমান, জ্ঞান এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর অনুসরণই কবরের প্রশ্নে মানুষের অবস্থা আলাদা করবে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সূর্যগ্রহণের সময় সালাত আদায় করা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমল।
  • কবরের পরীক্ষা সত্য এবং সেখানে ঈমানের দৃঢ়তা গুরুত্বপূর্ণ।
  • মুমিন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে হিদায়াতের বাহক হিসেবে চিনবে।
  • শুধু লোকের অনুসরণে কথা বলা ঈমানের দৃঢ়তার বিকল্প নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন