১১/৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯৮৭ - সূর্যগ্রহণের সালাত ও আল্লাহর নিদর্শন

সুর্যগ্রহণের সলাতে নাবী (ﷺ)-এর নিকট জান্নাত ও জাহান্নামের যা কিছু উত্থাপন করা হয়েছে

সূর্যগ্রহণের সালাত ও আল্লাহর নিদর্শন

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৯৮৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ، اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ - وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ - قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ مَاتَ إِبْرَاهِيمُ ابْنُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ النَّاسُ إِنَّمَا انْكَسَفَتْ لِمَوْتِ إِبْرَاهِيمَ. فَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ فَصَلَّى بِالنَّاسِ سِتَّ رَكَعَاتٍ بِأَرْبَعِ سَجَدَاتٍ بَدَأَ فَكَبَّرَ ثُمَّ قَرَأَ فَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِمَّا قَامَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَقَرَأَ قِرَاءَةً دُونَ الْقِرَاءَةِ الأُولَى ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِمَّا قَامَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَقَرَأَ قِرَاءَةً دُونَ الْقِرَاءَةِ الثَّانِيَةِ ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِمَّا قَامَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ ثُمَّ انْحَدَرَ بِالسُّجُودِ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ أَيْضًا ثَلاَثَ رَكَعَاتٍ لَيْسَ فِيهَا رَكْعَةٌ إِلاَّ الَّتِي قَبْلَهَا أَطْوَلُ مِنَ الَّتِي بَعْدَهَا وَرُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ سُجُودِهِ ثُمَّ تَأَخَّرَ وَتَأَخَّرَتِ الصُّفُوفُ خَلْفَهُ حَتَّى انْتَهَيْنَا - وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ حَتَّى انْتَهَى إِلَى النِّسَاءِ - ثُمَّ تَقَدَّمَ وَتَقَدَّمَ النَّاسُ مَعَهُ حَتَّى قَامَ فِي مَقَامِهِ فَانْصَرَفَ حِينَ انْصَرَفَ وَقَدْ آضَتِ الشَّمْسُ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَإِنَّهُمَا لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ - وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ لِمَوْتِ بَشَرٍ - فَإِذَا رَأَيْتُمْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَصَلُّوا حَتَّى تَنْجَلِيَ مَا مِنْ شَىْءٍ تُوعَدُونَهُ إِلاَّ قَدْ رَأَيْتُهُ فِي صَلاَتِي هَذِهِ لَقَدْ جِيءَ بِالنَّارِ وَذَلِكُمْ حِينَ رَأَيْتُمُونِي تَأَخَّرْتُ مَخَافَةَ أَنْ يُصِيبَنِي مِنْ لَفْحِهَا وَحَتَّى رَأَيْتُ فِيهَا صَاحِبَ الْمِحْجَنِ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ كَانَ يَسْرِقُ الْحَاجَّ بِمِحْجَنِهِ فَإِنْ فُطِنَ لَهُ قَالَ إِنَّمَا تَعَلَّقَ بِمِحْجَنِي. وَإِنْ غُفِلَ عَنْهُ ذَهَبَ بِهِ وَحَتَّى رَأَيْتُ فِيهَا صَاحِبَةَ الْهِرَّةِ الَّتِي رَبَطَتْهَا فَلَمْ تُطْعِمْهَا وَلَمْ تَدَعْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الأَرْضِ حَتَّى مَاتَتْ جُوعًا ثُمَّ جِيءَ بِالْجَنَّةِ وَذَلِكُمْ حِينَ رَأَيْتُمُونِي تَقَدَّمْتُ حَتَّى قُمْتُ فِي مَقَامِي وَلَقَدْ مَدَدْتُ يَدِي وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أَتَنَاوَلَ مِنْ ثَمَرِهَا لِتَنْظُرُوا إِلَيْهِ ثُمَّ بَدَا لِي أَنْ لاَ أَفْعَلَ فَمَا مِنْ شَىْءٍ تُوعَدُونَهُ إِلاَّ قَدْ رَأَيْتُهُ فِي صَلاَتِي هَذِهِ " .

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় অর্থাৎ যেদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রিয় পুত্র ইব্‌রাহীম মৃত্যুবরণ করেন, সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। এতে লোকেরা বলতে লাগল ইব্‌রাহীমের মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ লেগেছে। নবী (ﷺ) উঠে গিয়ে উপস্থিত লোকদের নিয়ে ছয় রুকূ’ ও চার সিজদায় সালাত আদায় করলেন।সূচনাতে তাকবির উচ্চারণ করলেন পরে ক্বিরাআত পাঠ করলেন এবং ক্বিরাআত বেশ লম্বা করলেন। অতঃপর রুকূ’ করলেন। রুকূ’তে ক্বিয়ামের সমপরিমাণ সময় অবস্থান করলেন। অতঃপর রুকূ’ থেকে মাথা উঠালেন এবং ক্বিয়ামে প্রথম ক্বিরাআত অপেক্ষা কিছু ছোট ক্বিরাআত পাঠ করলেন। অতঃপর ক্বিয়ামের সমপরিমাণ সময় রুকূতে কাটালেন। তারপর রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে ক্বিরাআত পাঠ করলেন যা পূর্বের ক্বিরাআত অপেক্ষা ছোট ছিল। অতঃপর রুকূতে গিয়ে ক্বিয়ামের পরিমাণ সময় অতিবাহিত করলেন। এরপর রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে সিজদায় গেলেন এবং দুটি সাজদাহ করলেন।তারপর দাঁড়িয়ে আরো তিনটি রুকূ করলেন। শেষের তিন রুকূ’ এরূপ ছিল যে, প্রত্যেক রুকূ’ পূর্ববর্তী রুকূ’ অপেক্ষা ছোট এবং পরবর্তী রুকূ’ অপেক্ষা দীর্ঘ ছিল। আর প্রতিটি রুকূ’র সময় সিজদার সমপরিমাণ ছিল। অতঃপর তিনি একটু পিছনে সরে আসলেন আর তাঁর পিছনের সারিগুলোও পিছনে সরে গিয়ে আমরা পৌঁছে গেলাম। আবূ বাক্‌র বলেনঃ মহিলাদের কাতার পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। অতঃপর তিনি সামনে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর সাথে সব লোক সামনে এগিয়ে গেল। অবশেষে তিনি (ﷺ) তাঁর নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে সালাত শেষ করলেন। এদিকে সূর্য তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এল।সালাত শেষে তিনি (ﷺ) উপস্থিত লোকদেরকে সম্বোধন করে বললেন, হে লোক সকল। চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। আর এ দুটি কোন মানুষের মৃত্যুর কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। আবূ বাক্‌র-এর বর্ণনায় (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন), “কোন মানুষের মৃত্যুর কারণে” (এ দুটি গ্রহণ হয় না)। অতএব, তোমরা যখন এরূপ কিছু ঘটতে দেখ তখন সালাত আদায় কর যে পর্যন্ত সূর্য স্পষ্ট হয়ে না যায়। তোমাদের কাছে যে সব বিষয় সম্পর্কে ওয়া’দা করা হয়েছে তার প্রতিটি আমি আমার সালাতের মধ্যে দেখতে পেয়েছি।আমার কাছে জাহান্নাম তুলে ধরা হয়েছে। আর এটা তখন যখন তোমরা আমাকে দেখেছ যে, আমি পিছনে সরে এসেছি এর লেলিহান শিখা আমাকে স্পর্শ করার ভয়ে। অবশেষে আমি জাহান্নামের মধ্যে লৌহশলাকাধারীকে (‘আমর ইবনু মালিক) দেখলাম, সে জাহান্নামের মধ্যে নিজের নাড়ীভূঁড়ি টানছে। এ ব্যক্তি নিজ লাঠি দ্বারা হজ্জ যাত্রীদের মালপত্র চুরি করত। এরপর যদি ধরা পড়ে যেত তখন বলত আহ! আমার শলাকার সাথে লেগে গেছে। আর কেউ অসাবধান থাকলে তা নিয়ে যেত। এছাড়া জাহান্নামের মধ্যে ঐ মহিলাকেও দেখতে পেলাম যে, একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল। এরপর এটাকে আহারও দেয়নি, ছেড়েও দেয়নি, যাতে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারত। শেষ পর্যন্ত বিড়ালটি ক্ষুধায় ছটফট করে মারা গেল।অতঃপর আমার সামনে জান্নাত তুলে ধরা হয়েছে। আর এটা তখন দৃষ্ট হয়েছে, যখন তোমরা আমাকে দেখতে পেয়েছ যে, আমি সামনে এগিয়ে গেছি এবং নিজস্থানে দাঁড়িয়েছি। আমি আমার হাত প্রসারিত করলাম এবং এর ফল তুলে নেবার ইচ্ছা করলাম যাতে তোমরা তা দেখতে পাও। অতঃপর এরূপ না করাই স্থিরকৃত হলো। যেসব বিষয় তোমাদের জানানো হয়েছিল তার প্রতিটি বিষয় আমি আমার এ সালাতে থাকাকালীন দেখতে পেয়েছি।

ই.ফা. ১৯৭১, ই.সে. ১৯৭৮

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯৮৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সালাত, আল্লাহর নিদর্শন এবং মানুষের ভুল ধারণা ভাঙার শিক্ষা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পুত্র ইব্রাহিমের মৃত্যুর দিন সূর্যগ্রহণ হলে মানুষ বলতে শুরু করল, তাঁর মৃত্যুর কারণেই গ্রহণ হয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্ট করে জানালেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন; এগুলো কোনো মানুষের মৃত্যু বা জীবনের কারণে গ্রহণগ্রস্ত হয় না। তিনি দীর্ঘ কিয়াম, রুকু ও সিজদাসহ সালাত আদায় করলেন এবং গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সালাতে মগ্ন থাকলেন। এই সালাতে তাঁর সামনে জান্নাত ও জাহান্নাম তুলে ধরা হয়। তিনি চুরি, প্রতারণা এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার ভয়াবহ পরিণতিও দেখলেন। তাই সূর্যগ্রহণের সালাত শুধু একটি আমল নয়; এটি আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, ভুল বিশ্বাস ত্যাগ করা এবং নিজের কাজ নিয়ে সতর্ক হওয়ার বড় শিক্ষা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কোনো মানুষের মৃত্যু বা জন্মের কারণে ঘটে না; এগুলো আল্লাহর নিদর্শন।
  • গ্রহণ দেখা গেলে সালাত আদায় করা এবং আল্লাহর দিকে মনোযোগী হওয়া নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শেখানো আমল।
  • চুরি, প্রতারণা এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা জাহান্নামের শাস্তির কারণ হতে পারে।
  • জান্নাত ও জাহান্নামের স্মরণ মানুষকে নিজের কাজ ঠিক করার দিকে ডেকে আনে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন