৩৮/৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩৮৫ - রাজাধিরাজ নামের নিষেধ
“রাজাধিরাজ” নাম রাখা হারাম।
রাজাধিরাজ নাম কেন অপছন্দনীয়: নামের আদব ও বিনয়
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৩৮৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৩৮৫
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَخْنَعُ الأَسْمَاءِ عِنْدَ اللهِ رَجُلٌ تَسَمَّى بِمَلِكِ الأَمْلاَكِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ তা‘আলার নিকট সর্বাধিক নিকৃষ্ট নামধারী অথবা বলেছেন, সব নামের মধ্যে ঘৃণিত নাম হলো সে ব্যক্তি, যে ‘রাজাধিরাজ’ নাম ধারণ করেছে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৮; আদৰ-আচার, অধ্যায় ১১৪, হাঃ ৬২০৫; মুসলিম, পর্ব ৩৮ : আচার-ব্যবহার, অধ্যায় ৪, হাঃ ২১৪৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এমন একটি নামের কথা বলেছেন, যা আল্লাহ তা‘আলার নিকট অত্যন্ত নিকৃষ্ট বা ঘৃণিত। সেটি হলো এমন নাম, যার অর্থ রাজাধিরাজ বা সব রাজাদের রাজা। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, মানুষ নিজের জন্য এমন বড় দাবি করা নাম গ্রহণ করবে না, যা আল্লাহর বড়ত্বের সঙ্গে মানানসই নয়। নাম মানুষের পরিচয়, কিন্তু নামের ভেতরে অহংকার বা সীমা ছাড়ানো দাবি থাকা উচিত নয়। তাই ইসলামে সুন্দর নামের পাশাপাশি বিনয়ী অর্থও গুরুত্বপূর্ণ। এই হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সম্মান চাইতে গিয়ে এমন নাম নেওয়া ঠিক নয়, যা বান্দার সীমা ভুলিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামের অর্থে অহংকার বা বড়াই থাকলে তা এড়িয়ে চলা উচিত।
- রাজাধিরাজ ধরনের নাম হাদিসে কঠোরভাবে অপছন্দ করা হয়েছে।
- মানুষের নামের মধ্যেও আল্লাহর বড়ত্বের প্রতি সম্মান থাকা দরকার।
- সুন্দর নাম মানে শুধু আকর্ষণীয় শব্দ নয়, সঠিক অর্থও জরুরি।
