১/৮. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৪ - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও জান-মালের নিরাপত্তা
যে পর্যন্ত লোকেরা “আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল” না বলবে ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যাওয়ার নির্দেশ।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ: জান-মালের নিরাপত্তা ও আল্লাহর হিসাব
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৪
حديث أَبي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُمِرْتُ أَنْ أُقاتِلَ النَّاسَ حَتّى يَقُولُوا لا إِلهَ إِلاّ اللهُ، فَمَنْ قَالَ لا إِلهَ إِلاّ اللهُ فَقَدْ عَصَمَ مِنّي نَفْسَهُ وَمالَهُ إِلاَّ بِحَقِّهِ، وَحِسابُهُ عَلى اللهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত লোকেদের সঙ্গে যুদ্ধ করার আদেশ দেয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে আর যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলবে সে তার জান ও মাল আমার হাত থেকে বাঁচিয়ে নিল। অবশ্য ইসলামের কর্তব্যাদি আলাদা, আর তার হিসাব আল্লাহর উপর ন্যস্ত।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৬ : জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান, অধ্যায় ১০২, হাঃ ২৯৪৬; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ৮, হাঃ ২১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তাঁকে লোকদের সঙ্গে যুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে। যে এই কালিমা বলবে, সে তার জান ও মাল তাঁর হাত থেকে বাঁচিয়ে নিল; তবে ইসলামের কর্তব্যাদি আলাদা, আর তার হিসাব আল্লাহর উপর। এই হাদিসের মূল কথা হলো তাওহীদের ঘোষণা, বাহ্যিক নিরাপত্তা এবং আল্লাহর কাছে চূড়ান্ত হিসাব। এখানে হাদিসের ভাষা একটি বিশেষ দ্বীনি নির্দেশের কথা বলে; তাই এর বাইরে নিজের মতো করে বড় ব্যাখ্যা জুড়ে দেওয়া ঠিক নয়। এই শিক্ষা আমাদের কালিমার গুরুত্ব ও আল্লাহর হিসাবের কথা মনে করায়। তাই শুধু মুখের দাবি নয়, ইসলামের অধিকার ও আল্লাহর হিসাবের কথাও মনে রাখতে হয়। হাদিসটি মানুষের বাহ্যিক অবস্থান ও আল্লাহর জ্ঞানের পার্থক্য দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তাওহীদের ঘোষণা।
- এই কালিমার মাধ্যমে জান-মালের নিরাপত্তার কথা এসেছে।
- ইসলামের হক বা কর্তব্য আলাদা বিষয় হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।
- মানুষের চূড়ান্ত হিসাব আল্লাহর উপর ন্যস্ত।
