৪৩/২২. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫০৪ - নবীজির ঘাম ও চুলের বরকত
নবী (ﷺ)-এর ঘামের সুগন্ধি এবং তদ্দ্বারা বরকত গ্রহণ।
নবীজির ঘাম ও চুলের বরকত: উম্মু সুলায়ম (রাঃ)-এর ঘটনা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৫০৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৫০৪
حديث أَنَسٍ، أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ كَانَتْ تَبْسُطُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِطَعًا فَيَقِيلُ عِنْدَهَا عَلَى ذلِكَ النِّطَعِ قَالَ: فَإِذَا نَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَتْ مِنْ عَرَقِهِ وَشَعَرِهِ فَجَمَعَتْهُ فِي قَارُورَةٍ، ثُمَّ جَمَعَتْهُ فِي سُكٍّ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, উম্মু সুলায়ম (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর জন্য চামড়ার বিছানা বিছিয়ে দিতেন এবং তিনি সেখানেই ঐ চামড়ার বিছানার উপর কায়লুলা করতেন। এরপর তিনি যখন ঘুম থেকে উঠতেন, তখন তিনি তাঁর শরীরের কিছুটা ঘাম ও চুল সংগ্রহ করতেন এবং তা একটা শিশির মধ্যে জমাতেন এবং পরে ‘সুক্ক’ নামীয় সুগন্ধির মধ্যে মিশাতেন। রাবী বর্ণনা করেন যে, আনাস ইবনু মালিক-এর ওফাতের সময় ঘনিয়ে আসলে, তিনি আমাকে অসিয়ত করলেনঃ যেন ঐ সুক্ক থেকে কিছুটা তাঁর সুগন্ধির মধ্যে মিশিয়ে দেয়া হয়। সুতরাং তা তাঁর সুগন্ধির মধ্যে মিশিয়ে দেয়া হয়েছিল।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৯; অনুমতি প্রার্থনা, অধ্যায় ৪১, হাঃ ৬২৮১
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, উম্মু সুলায়ম (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জন্য চামড়ার বিছানা বিছিয়ে দিতেন এবং তিনি সেখানে কায়লুলা করতেন। নবীজি ঘুম থেকে উঠলে তিনি তাঁর শরীরের কিছু ঘাম ও চুল সংগ্রহ করতেন। পরে তা একটি শিশিতে রেখে ‘সুক্ক’ নামের সুগন্ধির সাথে মিশাতেন। বর্ণনায় আরও আছে, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে অসিয়ত করেন যেন ঐ সুগন্ধির কিছু তাঁর সুগন্ধির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। এই হাদিসে সাহাবিদের নবীজির প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সম্মানের চিত্র দেখা যায়। তবে ব্যাখ্যায় আমাদের হাদিসের কথাতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। এখানে মূল বিষয় হলো নবীজির শরীরের পবিত্রতা, সাহাবিদের ভালোবাসা এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবিরা নবীজির প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সম্মান রাখতেন।
- নবীজির ঘাম ও চুলকে সাহাবিরা বিশেষভাবে মূল্য দিতেন।
- অসিয়ত করার সময়ও আনাস (রাঃ) নবীজির স্মৃতি মনে রেখেছিলেন।
- হাদিসের সীমার বাইরে বাড়তি ব্যাখ্যা যোগ না করাই নিরাপদ।
