৪৩/২৩. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫০৫ - নবীজির কাছে ওয়াহী আসার ধরন
নবী (ﷺ)-এর উপর ওহী নাযিল হওয়ার এমনকি শীতকালেও ঘর্মাক্ত হয়ে যাওয়া।
ওয়াহী কীভাবে আসত: নবীজির নিজের বর্ণনা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৫০৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৫০৫
حديث عَائِشَةَ، أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّ الْحارثَ بْنَ هِشَامٍ رضي الله عنه، سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ يَأْتِيكَ الْوَحْيُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَحْيَانًا يَأْتِينِي مِثْلَ صَلْصَلَةِ الْجَرَسِ، وَهُوَ أَشَدُّهُ عَلَيَّ، فَيُفْصَمُ عَنِّي وَقَدْ وَعَيْتُ عَنْهُ مَا قَالَ وَأَحْيَانًا يَتَمَثَّلُ لِي الْمَلَكُ رَجُلاً فَيُكَلِّمُنِي فَأَعِي مَا يَقُولُ قَالَتْ عَائِشَةَ: وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَنْزِلُ عَلَيْهِ الْوَحْيُ فِي الْيَوْمِ الشَّدِيدِ الْبَرْدِ فَيَفْصِمُ عَنْهُ، وَإِنَّ جَبِينَهُ لَيَتَفَصَّدُ عَرَقًا
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হারিস ইব্নু হিশাম (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনার নিকট ওহী কিরূপে আসে?’ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ [কোন কোন সময় তা ঘণ্টা বাজার মত আমার নিকট আসে। আর এটি-ই আমার উপর সবচেয়ে বেদনাদায়ক হয় এবং তা শেষ হতেই ফেরেশতা যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নেই, আবার কখনো ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার সাথে কথা বলেন। তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নেই।] ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি তীব্র শীতের সময় ওহী নাযিলরত অবস্থায় তাঁকে দেখেছি। ওহী শেষ হলেই তাঁর ললাট হতে ঘাম ঝরে পড়ত।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ১: ওয়াহীর সূচনা, অধ্যায় ২, হাঃ ২; মুসলিম, পর্ব ৪৩: ফাযায়েল, অধ্যায় ২৩, হাঃ ২৩৩৩
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হারিস ইবনু হিশাম (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করেন, আপনার কাছে ওয়াহী কীভাবে আসে? নবীজি বলেন, কখনো তা ঘণ্টা বাজার মতো আসে, আর সেটিই তাঁর উপর সবচেয়ে বেদনাদায়ক হয়। ওয়াহী শেষ হলে ফেরেশতা যা বলেন, তিনি তা মুখস্থ করে নেন। আবার কখনো ফেরেশতা মানুষের রূপে এসে কথা বলেন, তখনও তিনি যা বলেন তা মুখস্থ করে নেন। ‘আয়িশা (রাঃ) জানান, তীব্র শীতেও ওয়াহী নাযিলের পর নবীজির ললাট থেকে ঘাম ঝরে পড়ত। এই হাদিস ওয়াহীর ভার, নবীজির ধৈর্য এবং আল্লাহর বাণী গ্রহণের বিশেষ অবস্থাকে তুলে ধরে। এখানে মূল শিক্ষা হলো ওয়াহী কোনো সাধারণ কথা ছিল না; এটি নবীজির উপর এক গভীর দায়িত্ব ছিল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওয়াহী নাযিল হওয়া নবীজির জন্য ভারী ও গুরুতর বিষয় ছিল।
- ফেরেশতা কখনো মানুষের রূপে এসে নবীজির সাথে কথা বলতেন।
- নবীজি ওয়াহীর কথা মনে রাখতেন এবং তা গ্রহণ করতেন।
- ওয়াহীর মর্যাদা বুঝলে কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ে।
