৪৩/৩৭. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫২১ - প্রশ্নের আদব ও অযথা জিজ্ঞাসার সতর্কতা
রাসূল (ﷺ)-কে মর্যাদা দেয়া, তাঁকে বিনা প্রয়োজনে এবং বিষয়ের সাথে সম্পর্কহীন ও অবাস্তব ইত্যাদি প্রশ্ন করা পরিত্যাগ করা।
প্রশ্নের আদব: অযথা জিজ্ঞাসা কেন ঝুঁকিপূর্ণ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৫২১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৫২১
حديث سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ أَعْظَمَ الْمُسْلِمِينَ جُرْمًا مَنْ سَأَلَ عَنْ شَيْءٍ لَمْ يُحَرَّمْ فَحُرِّمَ مِنْ أَجْلِ مَسْئَلَتِهِ
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিমদের সবচেয়ে বড় অপরাধী সেই ব্যক্তি যে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করে যা পূর্বে হারাম ছিল না, কিন্তু তার প্রশ্নের কারণে তা হারাম হয়ে গেছে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯৬ কুরআন ও হাদীসকে শক্তভাবে ধরে থাকা, অধ্যায় ৩, হাঃ ৭২৮৯; মুসলিম, পর্ব ৪৩: ফাযায়েল, অধ্যায় ৩৭, হাঃ ২৩৫৮
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের কোর টপিক হলো প্রশ্নের আদব। নবী (صلى الله عليه وسلم) সতর্ক করেছেন, এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা ঠিক নয় যা আগে হারাম ছিল না, কিন্তু প্রশ্নের কারণে তা হারাম হয়ে যায়। এখানে মূল শিক্ষা হলো দ্বীনের বিষয়ে জ্ঞান নেওয়া ভালো, তবে অকারণ, জেদি বা কষ্ট বাড়ায়—এমন প্রশ্ন থেকে বাঁচা দরকার। ইসলাম সহজ পথ দেখায়; তাই প্রয়োজনীয় মাসআলা জানা আর অযথা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে এমন কিছু জানতে চাওয়া—দুইটি এক নয়। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, মুসলিমদের কল্যাণ মাথায় রেখে কথা বলা ও প্রশ্ন করা উচিত। প্রশ্নের আদব, অযথা প্রশ্ন এবং হারাম-হালাল বিষয়ে সতর্কতা—এই তিনটি বিষয় এখানে খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনের বিষয়ে প্রশ্ন করা প্রয়োজন হলে করতে হবে, কিন্তু অযথা চাপ সৃষ্টি করা ঠিক নয়।
- যে প্রশ্ন মানুষের জন্য কষ্ট বা সংকীর্ণতা ডেকে আনে, তা থেকে বাঁচা উচিত।
- হারাম-হালাল বিষয়ে কথা বলার সময় দায়িত্ববোধ থাকা দরকার।
- শিক্ষা নেওয়ার উদ্দেশ্য ভালো হলে প্রশ্নও সুন্দর ও পরিমিত হয়।
