৪৩/৩৭. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫২৪ - অপছন্দনীয় প্রশ্ন ও তাওবার শিক্ষা
রাসূল (ﷺ)-কে মর্যাদা দেয়া, তাঁকে বিনা প্রয়োজনে এবং বিষয়ের সাথে সম্পর্কহীন ও অবাস্তব ইত্যাদি প্রশ্ন করা পরিত্যাগ করা।
অপছন্দনীয় প্রশ্ন থেকে তাওবা: প্রশ্নের আদবের হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৫২৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৫২৪
حديث أَبِي مُوسى، قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَنْ أَشْيَاءَ كَرِهَهَا، فَلَمَّا أُكْثِرَ عَلَيْهِ غَضِبَ ثُمَّ قَالَ لِلنَّاسِ: سَلُونِي عَمَّا شِئْتُمْ قَالَ رَجُلٌ: مَنْ أَبِي قَالَ: أَبُوكَ حُذَافَةُ فَقَامَ آخَرُ فَقَالَ: مَنْ أَبِي يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ: أَبُوكَ سَالِمٌ مَوْلَى شَيْبَةَ فَلَمَّا رَأَى عُمَرُ مَا فِي وَجْهِهِ، قَالَ: يَا رَسُول اللهِ إِنَّا نَتُوبُ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা নবী (ﷺ)-কে কয়েকটি অপছন্দনীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। প্রশ্নের সংখ্যা অধিক হয়ে যাওয়ায় তখন তিনি রেগে গিয়ে লোকদেরকে বললেনঃ ‘তোমরা আমার নিকট যা ইচ্ছে প্রশ্ন কর।’ এক ব্যক্তি বলল, ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হুযাফাহ।’ আর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হল শায়বার দাস সালিম।’ তখন ‘উমর (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর চেহারার অবস্থা দেখে বললেনঃ ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট তাওবাহ করছি।’
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩: ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান), অধ্যায় ২৮, হাঃ ৯২; মুসলিম, পর্ব ৪৩: ফাযায়েল, অধ্যায় ৩৭, হাঃ ২৩৬০
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের কোর টপিক হলো প্রশ্নের আদব। নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে এমন কিছু বিষয় জিজ্ঞেস করা হলো, যা তিনি অপছন্দ করলেন। প্রশ্ন বেশি হয়ে গেলে তিনি রেগে বললেন, যা ইচ্ছে প্রশ্ন কর। এরপর দুজন লোক নিজের পিতা সম্পর্কে জানতে চাইল, আর তিনি উত্তর দিলেন। উমার (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর চেহারার অবস্থা দেখে বললেন, আমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করছি। এই বর্ণনায় খুব সহজ শিক্ষা আছে: সব প্রশ্ন উপকারী নয়। কিছু প্রশ্ন মানুষের মনে অশান্তি আনতে পারে, আবার রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর অপছন্দের কারণও হতে পারে। তাই দ্বীনের বিষয়ে দরকারি জ্ঞান নিতে হবে, কিন্তু অকারণ খোঁচাখুঁচি বা কষ্টদায়ক প্রশ্ন থেকে ফিরে আসতে হবে। তাওবা, ভদ্রতা এবং প্রশ্নের সীমা—এগুলোই এই হাদিসের মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সব প্রশ্ন সমানভাবে ভালো নয়; কিছু প্রশ্ন অপছন্দনীয় হতে পারে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর অসন্তুষ্টি দেখা গেলে সাহাবীরা দ্রুত তাওবার দিকে ফিরতেন।
- নিজের কথা ও প্রশ্নে অন্যের কষ্টের সম্ভাবনা থাকলে সতর্ক হওয়া উচিত।
- ভুল বুঝলে আল্লাহর কাছে তাওবা করা মুমিনের সুন্দর আচরণ।
