৪৪/৩. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫৫৫ - আবূ বকর, উমার ও উসমান রাঃ-এর জান্নাতের সুসংবাদ
উসমান বিন আফফান (রাঃ)-এর মর্যাদা।
সাহাবীর মর্যাদা: আবূ বকর, উমার ও উসমান রাঃ-এর জান্নাতের সুসংবাদ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৫৫৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৫৫৫
حديث أَبِي موسى الأَشْعَرِيِّ، أَنَّهُ تَوَضَّأَ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ خَرَجَ فَقلْتُ لأَلْزَمَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلأَكُونَنَّ مَعَهُ يَوْمِي هذَا، قَالَ: فَجَاءَ الْمَسْجِدَ فَسَأَلَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالُوا: خَرَجَ وَوَجَّهَ ههُنَا فَخَرَجْتُ عَلَى إِثْرِهِ أَسْأَلُ عَنْهُ حَتَّى دَخَلَ بِئْرَ أَرِيسٍ فَجَلَسْتُ عِنْدَ الْبَابِ، وَبَابهَا مِنْ جَرِيدٍ، حَتَّى قَضى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حَاجَتَهُ فَتَوَضَّأَ، فَقُمْتُ إِلَيْهِ، فَإِذَا هُوَ جَالِسٌ عَلَى بِئْرِ أَرِيسٍ، وَتَوَسَّطَ قُفَّهَا، وَكَشَف عَنْ سَاقَيْهِ وَدَلاَّهُمَا فِي الْبِئْرِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، ثُمَّ انْصَرَفْتُ فَجَلَسْتُ عِنْدَ الْبَابِ فَقُلْتُ لأَكُونَنَّ بَوَّابَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، الْيَوْمَ فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ فَدَفَعَ الْبَابَ، فَقُلْتُ: مَنْ هذَا فَقَالَ: أَبُو بَكْرٍ فَقُلْتُ: عَلَى رِسْلِكَ ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ [ص: 131] هذَا أَبُو بَكْرٍ يَسْتَأذِنُ فَقَالَ: ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ فَأَقْبَلْتُ حَتَّى قُلْتُ لأَبِي بَكْر: ادْخُلْ، وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُبَشِّرُكَ بِالْجَنَّةِ فَدَخَلَ أَبُو بَكْرٍ، فَجَلَسَ عَنْ يِمِينِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَهُ فِي الْقُفِّ، وَدَلَّى رِجْلَيْهِ فِي الْبِئْرِ، كَمَا صنَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ ثُمَّ رَجَعْتُ فَجَلَسْتُ، وَقَدْ تَركْتُ أَخِي يَتَوَضَّأُ وَيَلْحَقُنِي فَقُلْتُ: إِنْ يُرِدِ اللهُ بفُلاَنٍ خيْرًا (يُرِيدُ أَخَاهُ) يَأْتِ بِهِ فَإِذَا إِنْسَانٌ يُحَرّكُ الْبَابَ فَقُلْتُ: مَنْ هذَا فَقَالَ: عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَقُلْتُ: عَلَى رِسْلِكَ ثُمَّ جِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَفَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَقُلْتُ: هذَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَسْتأْذِن فَقَالَ: ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ فَجِئْتُ، فَقُلْتُ: ادْخُلْ، وَبَشَّرَكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْجَنَّةِ فَدَخَلَ فَجَلَسَ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي الْقُفِّ، عَنْ يَسَارِهِ، وَدَلَّى رِجْلَيْهِ فِي الْبِئْرِ ثُمَّ رَجَعْتُ فَجَلَسْتُ فَقُلْتُ: إِنْ يُرِدِ اللهُ بِفُلاَنٍ خَيْرًا يَأْتِ بِهِ فَجَاءَ إِنْسَانٌ يُحَرِّك الْبَابَ فَقُلْتُ: مَنْ هذَا فَقَالَ: عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فَقُلْتُ: عَلَى رِسْلِكَ فَجِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرْتُهُ، فَقَالَ: ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ، عَلَى بَلْوَى تُصِيبهُ فَجِئْتُهُ، فَقُلْتُ لَهُ: ادْخُلْ، وَبَشَّركَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْجَنَّةِ عَلَى بَلْوَى تُصِيبُكَ فَدَخَلَ، فَوَجَدَ الْقُفَّ قَدْ مُلِى َ، فَجَلَسَ وُجَاهَهُ مِنَ الشِّقِّ الآخَرقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ (رَاوِي الْحَدِيثِ عَنْ أَبِي مُوسى) : فَأَوَّلْتهَا قُبُورَهُمْ
আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি একদা ঘরে উযূ করে বের হলেন এবং মনে মনে বললেন আমি আজ সারাদিন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে কাটাব, তাঁর হতে পৃথক হব না। তিনি মসজিদে গিয়ে নবী (ﷺ)-এর খবর নিলেন, সাহাবীগণ বললেন, তিনি এদিকে বেরিয়ে গেছেন, আমিও ঐ পথ ধরে তাঁর অনুসরণ করলাম। তাঁর খোঁজ জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকলাম। তিনি শেষ পর্যন্ত আরীস কূপের নিকট গিয়ে পৌঁছলেন। আমি দরজার নিকট বসে পড়লাম। দরজাটি খেজুরের শাখা দিয়ে তৈরি ছিল।আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন তাঁর প্রয়োজন সেরে উযূ করলেন। তখন আমি তাঁর নিকটে দাঁড়ালাম এবং দেখতে পেলাম তিনি আরীস কূপের কিনারার বাঁধের মাঝখানে বসে হাঁটু পর্যন্ত পা দুইটি খুলে কূপের ভিতরে ঝুলিয়ে রেখেছেন, আমি তাঁকে সালাম করলাম এবং ফিরে এসে দরজায় বসে রইলাম এবং মনে মনে স্থির করে নিলাম যে আজ আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করব।এ সময় আবূ বকর (রাঃ) এসে দরজায় ধাক্কা দিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আবূ বকর! আমি বললাম, অপেক্ষা করুন, আমি গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আবূ বকর (রাঃ) ভিতরে আসার অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, ভিতরে আসার অনুমতি দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি ফিরে এসে আবূ বকর (রাঃ) কে বললাম, ভিতরে আসুন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন।আবূ বকর (রাঃ) ভিতরে আসলেন এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর ডানপাশে কূপের ধারে বসে দুই পায়ের কাপড় হাঁটু পর্যন্ত উঠিয়ে নবী (ﷺ)-এর মত কূপের ভিতর ভাগে পা ঝুলিয়ে দিয়ে বসে পড়েন। আমি ফিরে এসে বসে পড়লাম। আমি আমার ভাইকে উযূ রত অবস্থায় রেখে এসেছিলাম। তাঁরও আমার সঙ্গে মিলিত হওয়ার কথা ছিল। তাই আমি বলতে লাগলাম, আল্লাহ যদি তাঁর কল্যাণ চান তবে তাঁকে নিয়ে আসুন।এমন সময় এক ব্যক্তি দরজা নাড়তে লাগল। আমি বললাম, কে? তিনি বললেন, আমি ‘উমর ইব্নু খাত্তাব। আমি বললাম, অপেক্ষা করুন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট সালাম পেশ করে আরয করলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! ‘উমর ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, তাঁকে ভিতরে আসার অনুমতি এবং জান্নাতের সুসংবাদ জানিয়ে দাও। আমি এসে তাঁকে বললাম, ভিতরে আসুন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন। তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর বামপাশে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় উঠিয়ে কূপের ভিতর দিকে পা ঝুলিয়ে বসে গেলেন। আমি আবার ফিরে আসলাম এবং বলতে থাকলাম আল্লাহ্ যদি আমার ভাইয়ের কল্যাণ চান, তবে যেন তাঁকে নিয়ে আসেন।অতঃপর আর এক ব্যক্তি এসে দরজা নাড়তে লাগল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কে? তিনি বললেন, আমি ‘উসমান ইব্নু আফ্ফান। আমি বললাম, থামুন নবী (ﷺ)-এর খেদমতে গিয়ে জানালাম। তিনি বললেন, তাঁকে ভিতরে আসতে বল এবং তাঁকেও জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে দাও। তবে কঠিন পরীক্ষা হবে। আমি এসে বললাম, ভিতরে আসুন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন; তবে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে। তিনি ভিতরে এসে দেখলেন, কূপের ধারে খালি জায়গা নেই। তাই তিনি নবী (ﷺ)-এর সম্মুখে অপর এক স্থানে বসে পড়লেন। সা‘ঈদ ইব্নু মুসাইয়্যাব (রহঃ) বলেছেন, আমি এর দ্বারা তাঁদের কবর এরূপ হবে এই অর্থ করেছি।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬২ : সাহাবাগণের মর্যাদা, অধ্যায় ৫, হাঃ ৩৬৭৪; মুসলিম, পর্ব ৪৪; সাহাবাগণের মর্যাদা, অধ্যায়, হাঃ ২৪০৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সাহাবীর মর্যাদা এবং জান্নাতের সুসংবাদ। আবূ মূসা আশআরী রাঃ একদিন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে থাকার ইচ্ছা করলেন। তিনি তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে আরীস কূপের কাছে পৌঁছালেন। সেখানে তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর দরজার কাছে বসে পাহারাদারের দায়িত্ব নিলেন। এরপর আবূ বকর রাঃ, উমার রাঃ এবং উসমান রাঃ একে একে অনুমতি চাইলেন। প্রতিবার আবূ মূসা রাঃ আগে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে অনুমতি নিলেন। নবী صلى الله عليه وسلم আবূ বকর রাঃ ও উমার রাঃ-কে জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন। উসমান রাঃ-এর ক্ষেত্রেও জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন, তবে তাঁর সামনে একটি কঠিন পরীক্ষার কথা জানালেন। হাদিসটি আমাদের শেখায়, বড়দের কাছে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করা, রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ মানা এবং সাহাবীদের বিশেষ মর্যাদা স্বীকার করা ইসলামী আদবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও ব্যক্তিগত জায়গায় ঢোকার আগে অনুমতি নেওয়া সুন্দর ইসলামী আদব।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আবূ বকর, উমার ও উসমান রাঃ-কে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন।
- উসমান রাঃ-এর জন্য জান্নাতের সুসংবাদের সঙ্গে একটি কঠিন পরীক্ষার কথাও বলা হয়েছে।
- আবূ মূসা রাঃ-এর আচরণ থেকে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর খেদমত ও আদবের গুরুত্ব বোঝা যায়।
