৪৪/৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫৫৬ - আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা ও নবুয়তের সমাপ্তি
আলী বিন আবু তালিব (রাঃ)-এর মর্যাদা।
আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা: তাবূক যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৫৫৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৫৫৬
حديث سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، أَن رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرجَ إِلَى تَبُوكَ، وَاسْتَخْلَفَ عَلِيًّا فَقَالَ: أَتخَلفُنِي فِي الصِّبْيَانِ وَالنِّسَاءِ قَالَ: أَلاَ تَرْضى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هارونَ مِنْ موسى إِلاَّ أَنَّهُ لَيْسَ نَبِيٌّ بَعْدِي
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলাল্লাহ (ﷺ) তাবূক যুদ্ধাভিযানে রওয়ানা হন। আর ‘আলী (রাঃ)-কে স্বীয় স্থলাভিষিক্ত করেন। ‘আলী (রাঃ) বলেন, আপনি কি আমাকে শিশু ও নারীদের মধ্যে ছেড়ে যাচ্ছেন। নবী (ﷺ) বললেন, তুমি কি এ কথায় রাজি নও যে, তুমি আমার কাছে সে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত মূসা (আঃ)’র নিকট যে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিলেন হারূন (আঃ)। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, [হারূন (আঃ) নবী ছিলেন আর] আমার পরে কোন নবী নেই।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৪ : মাগাযী, অধ্যায় ৭৯, হাঃ ৪৪১৬; মুসলিম, পর্ব ৪৪ : সাহাবাগণের মর্যাদা, অধ্যায়, ৪, হাঃ ২৪০৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা এবং নবুয়তের সমাপ্তি। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাবূক যুদ্ধাভিযানে রওয়ানা হওয়ার সময় আলী (রাঃ)-কে নিজের স্থলাভিষিক্ত করেন। এতে বোঝা যায়, তিনি আলী (রাঃ)-এর ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আলী (রাঃ) জানতে চান, তাঁকে কি শিশু ও নারীদের মধ্যে রেখে যাওয়া হচ্ছে। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে এমন কথায় সান্ত্বনা দেন, যা তাঁর মর্যাদা পরিষ্কার করে। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) তাঁর কাছে মূসা (আঃ)-এর কাছে হারূন (আঃ)-এর মতো মর্যাদার অধিকারী। তবে একটি বড় পার্থক্য হলো, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পরে আর কোনো নবী নেই। তাই এই হাদিসে আলী রাঃ এর মর্যাদা, তাবূক যুদ্ধের দায়িত্ব এবং আমার পরে কোন নবী নেই—এই তিনটি শিক্ষা স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আলী (রাঃ)-কে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে তাঁর ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।
- আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
- হারূন (আঃ)-এর সঙ্গে তুলনা করা হলেও আলী (রাঃ) নবী নন—কারণ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পরে কোনো নবী নেই।
- একজন দায়িত্বশীল মানুষকে কখনো কখনো যুদ্ধের ময়দানে না গিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়।
