৪৫/১৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬৬১ - নবীজির রোগকষ্ট ও ধৈর্যের শিক্ষা
মুমিন ব্যক্তি কোন অসুখে পড়লে অথবা চিন্তাগ্রস্ত হলে অথবা এ জাতীয় কোন বিপদে পড়লে এমনকি যদি তার কাঁটাও ফুটে তাহলে এর বিনিময়ে তাকে সওয়াব দেয়া হবে।
রোগ-সবর: নবীজির রোগযন্ত্রণা থেকে মুমিনের শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৬৬১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৬৬১
حَدِيثُ عَائِشَةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَشَدَّ عَلَيْهِ الوَجَعُ مِنْ رَسُولِ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেয়ে অধিক রোগ যাতনা ভোগকারী অন্য কাউকে দেখিনি।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৫ : রোগী, অধ্যায় ২, হাঃ ৫৬৪৬; মুসলিম, পর্ব ৪৫; সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ১৪, হাঃ ২৫৭০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশাহ (রাঃ) খুব সংক্ষিপ্ত ভাষায় একটি গভীর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর চেয়ে বেশি রোগযন্ত্রণা ভোগকারী কাউকে তিনি দেখেননি। এখানে মূল শিক্ষা হলো, রোগ বা শারীরিক কষ্ট কোনো মানুষের মর্যাদা কমে যাওয়ার প্রমাণ নয়। বরং নবী صلى الله عليه وسلم নিজেও রোগের কষ্ট পেয়েছেন। তাই একজন মুসলিম যখন অসুস্থ হয়, তখন সে নিজেকে একা ভাববে না এবং রোগকে শুধু হতাশার চোখে দেখবে না। এই হাদিসে গুনাহ মাফ বা সাওয়াবের কথা সরাসরি নেই, তাই ব্যাখ্যাও সেই সীমার মধ্যেই রাখা উচিত। হাদিসটি আমাদের শেখায়, সম্মানিত মানুষদের জীবনেও কষ্ট আসে, আর অসুস্থতার সময় ধৈর্য, ভদ্রতা ও আল্লাহর দিকে মন রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোগ-ব্যাধি নবী صلى الله عليه وسلم-এর জীবনেও এসেছে, তাই অসুস্থতা অপমানের বিষয় নয়।
- কষ্ট দেখে কারো ঈমান বা মর্যাদা নিয়ে তাড়াহুড়া করে মন্তব্য করা ঠিক নয়।
- রোগের সময় ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসার মানসিকতা রাখা দরকার।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর কষ্টের কথা মনে করলে নিজের অসুস্থতায় মন কিছুটা স্থির হতে পারে।
