৪৫/৩০. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬৭৬ - প্রকৃত বীর হলো যে রাগ নিয়ন্ত্রণ করে
রাগের সময় যে নিজেকে সংবরণ করতে পারবে তার মর্যাদা এবং কিসে রাগ দূরীভূত হয়।
রাগ নিয়ন্ত্রণ: প্রকৃত বীরত্বের হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৬৭৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৬৭৬
حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولُ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الغَضَبِ».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রকৃত বীর সে নয়, যে কাউকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়। বরং সেই প্রকৃত বাহাদুর, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৮; আদব-আচার, অধ্যায় ৭৬, হাঃ ৬১১৪; মুসলিম, পর্ব ৪৫: সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ৩০, হাঃ ২৬০৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বীরত্বের ধারণাকে নতুনভাবে বুঝিয়েছেন। সাধারণভাবে মানুষ শক্তিশালী বলতে তাকে বোঝে, যে কুস্তিতে অন্যকে হারাতে পারে। কিন্তু নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, প্রকৃত বীর সে নয়; বরং প্রকৃত শক্তিশালী সেই ব্যক্তি, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এখানে ‘রাগ নিয়ন্ত্রণ হাদিস’ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য খুব দরকারি। কারণ রাগের সময় কথা, আচরণ ও সিদ্ধান্ত অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। পরিবারে, বন্ধুত্বে, কাজের জায়গায় বা সমাজে রাগ সামলাতে পারা বড় গুণ। হাদিসটি আমাদের শেখায়, নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা বাইরের শক্তির চেয়ে বড় পরীক্ষা। তাই রাগ উঠলে থামা, কথা কমানো এবং নিজেকে সামলানোই মুমিনের বুদ্ধিমানের কাজ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রকৃত শক্তি হলো রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা।
- শারীরিক শক্তি একমাত্র বীরত্বের মাপকাঠি নয়।
- রাগের সময় ভুল কথা ও ভুল কাজের ঝুঁকি বেশি থাকে।
- নিজেকে সামলানো মুমিনের চরিত্রের বড় অংশ।
