৪৬/৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭০১ - চোখের যিনা ও দৃষ্টি সংযমের শিক্ষা
যিনা বা এ জাতীয় অপকর্মের যে অংশ আদাম সন্তানের উপর নির্ধারিত আছে।
চোখের যিনা: দৃষ্টি, কথা ও মনের খাহেশ থেকে বাঁচার শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৭০১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৭০১
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللهَ كَتَبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ حَظَّهُ مِنَ الزِّنَا أَدْرَكَ ذَلِكَ، لاَ مَحَالَةَ فَزِنَا الْعَيْنِ النَّظَرُ، وَزِنَا اللِّسَانِ الْمَنْطِقُ وَالنَّفْسُ تَمَنَّى وَتَشْتَهِي وَالْفَرْجُ يُصَدِّقُ ذَلِكَ وَيُكَذِّبُهُ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা বানী আদামের জন্য যিনার একটা অংশ নির্ধারিত রেখেছেন। সে তাতে অবশ্যই জড়িত হবে। চোখের যিনা হলো তাকানো, জিহ্বার যিনা হলো কথা বলা, কুপ্রবৃত্তি কামনা ও খাহেশ সৃষ্টি করে এবং যৌনাঙ্গ তা সত্য মিথ্যা প্রমাণ করে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৯; অনুমতি প্রার্থনা, অধ্যায় ১২, হাঃ ৬২৪৩; মুসলিম, পর্ব ৪৬; কাদর বা ভাগ্য, অধ্যায়, অধ্যায় ৫, হাঃ ২৬৫৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো চোখের যিনা ও গুনাহের শুরু কোথা থেকে হয় তা বোঝা। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, মানুষের জন্য যিনার একটি অংশ নির্ধারিত আছে। এখানে সরাসরি দেহের কাজের আগে চোখ, জিহ্বা ও মনের অবস্থার কথা বলা হয়েছে। চোখের যিনা হলো হারাম দিকে তাকানো। জিহ্বার যিনা হলো এমন কথা বলা যা কামনা জাগায় বা গুনাহের দিকে টানে। মন কামনা করে, খাহেশ তৈরি করে। এরপর যৌনাঙ্গ তা সত্য বা মিথ্যা করে। অর্থাৎ গুনাহ অনেক সময় চোখ ও কথা থেকে শুরু হয়। তাই দৃষ্টি সংযম, কথা সংযম এবং মনের খাহেশ নিয়ন্ত্রণ করা ঈমানদারের জন্য বড় শিক্ষা। এই হাদিস আমাদের সহজভাবে বুঝায়, ছোট মনে হওয়া কাজও বড় গুনাহের পথ খুলে দিতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হারাম দৃষ্টিও গুনাহের পথে নিয়ে যেতে পারে, তাই চোখকে সংযত রাখা জরুরি।
- কথা মানুষের মনে খারাপ কামনা তৈরি করতে পারে, তাই জিহ্বার হিফাজত দরকার।
- মনের খাহেশকে অবহেলা না করে শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
- শরীরের বড় গুনাহের আগে চোখ, জিহ্বা ও মনকে সতর্ক রাখা দরকার।
