৪৭/২. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭০৭ - ঝগড়াটে স্বভাব থেকে সাবধান
খুবই ঝগড়াটে প্রসঙ্গে।
ঝগড়াটে স্বভাব: আল্লাহর অপছন্দনীয় চরিত্র থেকে বাঁচুন
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৭০৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৭০৭
حديث عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِنَّ أَبْغَضَ الرِّجَالِ إِلَى اللهِ، الأَلَدُّ الْخَصِمُ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহর নিকট সেই লোক সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত, যে অতি ঝগড়াটে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪৬: অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন, অধ্যায় ১৫, হাঃ ২৪৫৭; মুসলিম, পর্ব ৪৭; ইলম, অধ্যায় ২, হাঃ ২৬৬৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ঝগড়াটে স্বভাব। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত লোক হলো অতি ঝগড়াটে ব্যক্তি। এখানে সাধারণ মতভেদ বা সত্য কথা বলা নিষেধ করা হয়নি। বরং যে ব্যক্তি কথায় কথায় ঝগড়া করে, বিরোধ বাড়ায়, তর্কে জেদ ধরে এবং শান্তি নষ্ট করে—তার চরিত্রের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে। একজন মুসলিমের কথা হওয়া উচিত নরম, সত্যভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ। অতি ঝগড়াটে স্বভাব পরিবার, সমাজ ও দ্বীনি পরিবেশে ক্ষতি করে। এই হাদিস আমাদের শেখায়, জিততে হবে এমন মনোভাব নিয়ে কথা না বলে সত্য, ন্যায় ও শান্তিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ঝগড়া কমানোও ভালো আখলাকের অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অতি ঝগড়াটে স্বভাব আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয়।
- মতভেদ হলে জেদ নয়, শান্ত ও ন্যায্য কথা বলা দরকার।
- কথায় কথায় তর্ক করা ভালো আখলাকের বিপরীত।
- পরিবার ও সমাজে শান্তি রক্ষায় জিহ্বা সংযত রাখা জরুরি।
