৪৭/১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭০৬ - মনোযোগসহ কুরআন তিলাওয়াত
কুরআনের মুতাশাবিহ বাণী অনুসন্ধান করা নিষেধ এবং যারা তা করে তাদের প্রতি সতর্কতা এবং কুরআনে ইখতিলাফ করা নিষেধ।
কুরআন তিলাওয়াত: মনোযোগ থাকলে পড়া, ব্যাঘাত হলে থামা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৭০৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৭০৬
حديث جُنْدَبٍ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اقْرَءُوا الْقُرْآنَ مَا ائْتلَفَتْ عَلَيْهِ قُلُوبُكُمْ فَإِذَا اخْتَلَفْتُمْ، فَقُومُوا عَنْهُ
জুনদাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইবাদত মনের চাহিদার অনুকূল হয় তিলাওয়াত করতে থাক এবং তাতে মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটলে পড়া ত্যাগ কর।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৬; আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ, অধ্যায় ৩৭, হাঃ ৫০৬১; মুসলিম, পর্ব ৪৭: ইলম, অধ্যায় ১, হাঃ ২৬৬৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কুরআন তিলাওয়াতের আদব। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যতক্ষণ তোমাদের মন এক থাকে এবং ইবাদতের চাহিদার সঙ্গে তিলাওয়াত চলে, ততক্ষণ কুরআন পড়ো। কিন্তু মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটলে পড়া ছেড়ে দাও। এখানে কুরআন তিলাওয়াতকে শুধু মুখের পড়া হিসেবে দেখানো হয়নি; মনও এর সঙ্গে যুক্ত। যদি পড়ার সময় মন অস্থির হয়ে যায়, বোঝাপড়া নষ্ট হয় বা মতভেদ বাড়ে, তখন থেমে যাওয়া নিরাপদ। এই হাদিস কুরআন পড়ার ভারসাম্য শেখায়। তিলাওয়াত হবে শ্রদ্ধা, মনোযোগ ও শান্তির সঙ্গে। জেদ, ক্লান্তি বা মনোযোগহীন অবস্থায় পড়া চালিয়ে যাওয়ার বদলে বিরতি নেওয়া ভালো। এতে কুরআনের প্রতি আদবও রক্ষা হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন তিলাওয়াত মনোযোগ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে করা উচিত।
- মন অস্থির হলে বা মতভেদ তৈরি হলে বিরতি নেওয়া নিরাপদ।
- তিলাওয়াত শুধু মুখের কাজ নয়, হৃদয়ের মনোযোগও দরকার।
- ইবাদতে ভারসাম্য রাখা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশনার অংশ।
