৫০/৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭৮১ - ঈমানের দৃঢ়তা ও কুফর অস্বীকার
নবী (ﷺ)-কে “রূহ” সম্পর্কে ইয়াহুদীদের জিজ্ঞাসা ও আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “তারা তোমাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে।” (সূরা বনি ইসরাইল ১৭/৮৫)
ঈমানের দৃঢ়তা: চাপের মুখেও রাসূলকে অস্বীকার না করার হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৭৮১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৭৮১
حديث خَبَّابٍ قَالَ: كُنْتُ قَيْنًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ لِي عَلَى الْعَاصِ بْنِ وَائِلَ دَيْنٌ فَأَتَيْتُهُ أَتَقَاضَاهُ قَالَ لاَ أُعْطِيكَ حَتَّى تَكْفُرَ بِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: لاَ أَكْفُرُ حَتَّى يُمِيتَكَ اللهُ، ثُمَّ تُبْعَثَ قَالَ: دَعْنِي حَتَّى أَمُوتَ وَأُبْعَثَ، فَسَأُوتَى مَالاً وَوَلَدًا، فَأَقْضِيَكَ، فَنَزَلَتْ ﴾أَفَرَأَيْتَ الَّذِي كَفَرَ بِآيَاتِنَا، وَقَالَ لأُوتَيَنَّ مَالاً وَوَلَدًا أَطَّلَعَ الْغَيْبَ أَمِ اتَّخَذَ عِنْدَ الرَّحْمنِ عَهْدًا﴿
খাব্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, জাহিলিয়াতের যুগে আমি কর্মকারের পেশায় ছিলাম। ‘আস ইবনু ওয়াইলের কাছে কিছু পাওনা ছিল। আমি তার কাছে তাগাদা করতে গেলে সে বলল, যতক্ষণ তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে অস্বীকার না করবে ততক্ষণ আমি তোমাকে তোমার পাওনা দিব না। আমি বললাম, আল্লাহ তোমাকে মৃত্যু দিয়ে তারপর তোমাকে পুনরুত্থিত করা পর্যন্ত আমি তাঁকে অস্বীকার করব না। সে বলল, আমি মরে পুনরুত্থিত হওয়া পর্যন্ত আমাকে অব্যাহতি দাও। শিগগিরই আমাকে সম্পদ ও সন্তান দেয়া হবে, তখন আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করব।এ প্রসঙ্গে এ আয়াত নাযিল হলঃ “তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবেই। সে কি অদৃশ্য সম্পর্কে অবহিত হয়েছে, অথবা দয়াময়ের নিকট হতে কোন প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে?” (সূরা মারইয়াম ১৯/৭৭-৭৮)।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩৪ : ক্রয়-বিক্রয়, অধ্যায় ২৯, হাঃ ২০৯১; মুসলিম, পর্ব ৫০ : মুনাফিক ও তাদের হুকুম, অধ্যায় ৪, হাঃ ২৭৯৫
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো ঈমানের দৃঢ়তা। খাব্বাব (রাঃ) নিজের পাওনা চাইতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পাওনাদার তাকে শর্ত দিল, মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم)-কে অস্বীকার করলে তবেই টাকা দেবে। এখানে দুনিয়ার পাওনা, অর্থের প্রয়োজন এবং ঈমান—এই তিনটি বিষয় সামনে আসে। খাব্বাব (রাঃ) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন, মৃত্যু ও পুনরুত্থান পর্যন্ত তিনি রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-কে অস্বীকার করবেন না। তাই এই হাদিসটি ঈমান অটুট রাখা, কুফর থেকে বাঁচা এবং আখিরাতের বিশ্বাসের একটি শক্ত বার্তা দেয়। ‘আস ইবনু ওয়াইল সম্পদ ও সন্তান পাওয়ার দাবি করেছিল, কিন্তু আল্লাহ তার কথার জবাবে আয়াত নাযিল করেন। হাদিসটি শেখায়, সত্য বিশ্বাস কখনো সামান্য দুনিয়ার লাভের বিনিময়ে বিক্রি করা যায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়ার পাওনা বা চাপের কারণে ঈমান ত্যাগ করা যাবে না।
- পুনরুত্থানের বিশ্বাস মুমিনের কথায় ও কাজে প্রভাব ফেলে।
- অহংকার করে ভবিষ্যতের সম্পদ ও সন্তান নিয়ে নিশ্চয়তার দাবি করা বিপজ্জনক।
- সত্যের পথে ক্ষতি হলেও ঈমান ধরে রাখা মুমিনের পরিচয়।
