৫০/৯. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭৮৭ - আল্লাহর ধৈর্য ও রিযকের শিক্ষা
আঘাতে আল্লাহ তা‘আলার চেয়ে আর কেউ অধিক ধৈর্যশীল নয়।
আল্লাহর ধৈর্য: কষ্টদায়ক কথা শুনেও রিযক দেওয়ার হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৭৮৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৭৮৭
حديث أَبِي مُوسى رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَيْسَ أَحَدٌ، أَوْ لَيْسَ شَيْءٌ أَصْبَرَ، عَلَى أَذًى سَمِعَهُ، مِنَ اللهِ إِنَّهُمْ لَيَدْعُونَ لَهُ وَلَدًا، وَإِنَّهُ لَيُعَافِيهِمْ وَيَرْزُقُهُمْ
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কষ্টের কথা শোনার পর আল্লাহ তা‘আলার চেয়ে অধিক ধৈর্যধারণকারী কেউ বা কোন কিছুই নেই। লোকেরা তাঁর জন্য সন্তান সাব্যস্ত করে; এরপরও তিনি তাদের বিপদ মুক্ত রাখেন এবং রিযক দান করেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৮: আদব-আচার, অধ্যায় ৭১, হাঃ ৬০৯৯; মুসলিম, পর্ব ৫০ : মুনাফিক ও তাদের হুকুম, অধ্যায় ৯, হাঃ ২৮০৪
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহ তা‘আলার ধৈর্যের কথা এসেছে। মানুষ আল্লাহর জন্য সন্তান সাব্যস্ত করে—এটি বড় অন্যায় কথা। তবুও আল্লাহ তাদেরকে সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস করেন না; বরং বিপদমুক্ত রাখেন এবং রিযক দান করেন। হাদিসটি আমাদের আল্লাহর সহনশীলতা, দয়া এবং রিযকদানের বিষয়টি মনে করিয়ে দেয়। এখানে বান্দার জন্য বড় শিক্ষা হলো, আল্লাহর ব্যাপারে ভুল কথা বলা থেকে বাঁচা এবং তাঁর প্রতি শুদ্ধ বিশ্বাস রাখা। একই সঙ্গে আমরা বুঝি, দুনিয়ায় রিযক পাওয়া মানেই কারও বিশ্বাস বা কাজ সঠিক—এমন নয়। আল্লাহ অনেককে অবকাশ দেন, রিযক দেন, বিপদ থেকে বাঁচান; এতে তাঁর ধৈর্য ও হিকমত প্রকাশ পায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর ব্যাপারে ভুল বিশ্বাস ও ভুল কথা থেকে বাঁচতে হবে।
- রিযক পাওয়া সবসময় সন্তুষ্টির প্রমাণ নয়; এটি আল্লাহর দান।
- আল্লাহ কষ্টদায়ক কথা শুনেও বান্দাদের অবকাশ দেন।
- শুদ্ধ তাওহীদ ও আদবের সঙ্গে আল্লাহকে মানা জরুরি।
