১৬/১৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮০৪ - আয়িশা রাঃ-এর হজ্জ ও উমরা
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু‘ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে
আয়িশা রাঃ-এর হজ্জ ও তানঈম থেকে উমরা
সহীহ মুসলিম : ২৮০৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮০৪
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ مُوَافِينَ لِهِلاَلِ ذِي الْحِجَّةِ - قَالَتْ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ أَرَادَ مِنْكُمْ أَنْ يُهِلَّ بِعُمْرَةٍ فَلْيُهِلَّ فَلَوْلاَ أَنِّي أَهْدَيْتُ لأَهْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ» .قَالَتْ فَكَانَ مِنَ الْقَوْمِ مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ وَمِنْهُمْ مَنْ أَهَلَّ بِالْحَجِّ - قَالَتْ - فَكُنْتُ أَنَا مِمَّنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ فَخَرَجْنَا حَتَّى قَدِمْنَا مَكَّةَ فَأَدْرَكَنِي يَوْمُ عَرَفَةَ وَأَنَا حَائِضٌ لَمْ أَحِلَّ مِنْ عُمْرَتِي فَشَكَوْتُ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ «دَعِي عُمْرَتَكِ وَانْقُضِي رَأْسَكِ وَامْتَشِطِي وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ " . قَالَتْ فَفَعَلْتُ فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ الْحَصْبَةِ - وَقَدْ قَضَى اللَّهُ حَجَّنَا - أَرْسَلَ مَعِي عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ فَأَرْدَفَنِي وَخَرَجَ بِي إِلَى التَّنْعِيمِ فَأَهْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ فَقَضَى اللَّهُ حَجَّنَا وَعُمْرَتَنَا وَلَمْ يَكُنْ فِي ذَلِكَ هَدْىٌ وَلاَ صَدَقَةٌ وَلاَ صَوْمٌ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বিদায় হজের বছর যিলহজ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে (মাক্কাহ্) রওনা হলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ‘উমরার ইহরাম বাঁধতে চায়, সে তা করতে পারে। আমার সঙ্গে হাদী বা কুরবানীর পশু না থাকলে আমি ‘উমরার ইহরাম বাঁধতাম। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, লোকদের মধ্যে কতক ‘উমরার ইহরাম বাঁধল এবং কতক হজের ইহরাম বাঁধল। তিনি বললেন, আমি ‘উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমরা রওনা হলাম, অতঃপর মাক্কায় পৌঁছে গেলাম।‘আরাফাহ্ দিবস পর্যন্ত আমার মাসিক ঋতু অব্যাহত থাকল এবং ‘উমরাহ্ করে ইহরাম খোলার সুযোগ পেলাম না। এ সংকটের বিষয়ে আমি নবী (ﷺ)-কে অবহিত করলে তিনি বললেন, তুমি তোমার ‘উমরাহ্ পরিত্যাগ কর, চুলের বাঁধন খুলে ফেল এবং তাতে চিরুনি কর আর হজের জন্য ইহরাম বাঁধ। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি তাই করলাম।অতঃপর যখন মুহাস্সাব-এর রাত হলো এবং আল্লাহ তা’আলা আমাদের হজ সমাপন করার তাওফীক্ব দিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার সাথে ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-কে পাঠালেন এবং তিনি আমাকে তাঁর বাহনের পেছনে বসিয়ে তান’ঈম নামক স্থানে রওনা হলেন। অতঃপর আমি ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম। এভাবে আল্লাহ তা‘আলা আমাদের হজ ও ‘উমরাহ্ সমাপনের তাওফীক্ব দান করলেন। এজন্য হাদী বা কুরবানী, সদাক্বাহ্ বা সাওম কোনটিই পালন করতে হয়নি।
ই.ফা. ২৭৮১,ই.সে. ২৭৭৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিদায় হজ্জের সময়ের একটি বিস্তারিত ঘটনা এসেছে। যিলহিজ্জার নতুন চাঁদের কাছাকাছি সময়ে তাঁরা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে রওনা হন। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, যে উমরার ইহরাম বাঁধতে চায়, সে তা করতে পারে। তিনি আরও বলেন, তাঁর সঙ্গে হাদি না থাকলে তিনিও উমরার ইহরাম বাঁধতেন। আয়িশা রাঃ উমরার ইহরামকারীদের মধ্যে ছিলেন। মক্কায় পৌঁছার পর আরাফা দিবস পর্যন্ত তাঁর হায়জ চলতে থাকে, তাই তিনি উমরা করে ইহরাম খুলতে পারেননি। তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-কে জানালে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, উমরা ছেড়ে দাও, চুল খুলে চিরুনি করো এবং হজ্জের ইহরাম বাঁধো। হজ্জ শেষ হলে মুহাসসাবের রাতে আবদুর রহমান রাঃ তাঁকে তানঈম নিয়ে যান। সেখান থেকে তিনি উমরা করেন। বর্ণনায় আরও আছে, এ জন্য হাদি, সদকা বা সাওম লাগেনি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আয়িশা রাঃ হায়জের কারণে উমরা শেষ করতে পারেননি।
- নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে উমরা ছেড়ে হজ্জের ইহরাম বাঁধতে বলেন।
- হজ্জ শেষ হলে তানঈম থেকে উমরা করার ব্যবস্থা করা হয়।
- এই ঘটনার কারণে হাদি, সদকা বা সাওম লাগেনি বলে বর্ণিত হয়েছে।
