১৬/১৭. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮০০ - বিদায় হজ্জে হজ্জ ও উমরার বিধান

ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু‘ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে

বিদায় হজ্জে হজ্জ ও উমরার বিধান

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮০০

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَأَهْلَلْنَا بِعُمْرَةٍ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْىٌ فَلْيُهِلَّ بِالْحَجِّ مَعَ الْعُمْرَةِ ثُمَّ لاَ يَحِلُّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا جَمِيعًا» . قَالَتْ فَقَدِمْتُ مَكَّةَ وَأَنَا حَائِضٌ لَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ وَلاَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَشَكَوْتُ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ «انْقُضِي رَأْسَكِ وَامْتَشِطِي وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ وَدَعِي الْعُمْرَةَ» . قَالَتْ فَفَعَلْتُ فَلَمَّا قَضَيْنَا الْحَجَّ أَرْسَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ إِلَى التَّنْعِيمِ فَاعْتَمَرْتُ فَقَالَ «هَذِهِ مَكَانَ عُمْرَتِكِ» . فَطَافَ الَّذِينَ أَهَلُّوا بِالْعُمْرَةِ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ حَلُّوا ثُمَّ طَافُوا طَوَافًا آخَرَ بَعْدَ أَنْ رَجَعُوا مِنْ مِنًى لِحَجِّهِمْ وَأَمَّا الَّذِينَ كَانُوا جَمَعُوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَإِنَّمَا طَافُوا طَوَافًا وَاحِدًا .

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা বিদায় হজের বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা ‘উমরার জন্য ইহরাম বাঁধলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যার সাথে হাদী অর্থাৎ কুরবানীর পশু আছে সে যেন একত্রে ‘উমরার সাথে হজের ইহরাম বাঁধে, অতঃপর ‘উমরাহ ও হজের অনুষ্ঠান শেষ না করে যেন ইহরামমুক্ত না হয়।‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আমি হায়য অবস্থায় মাক্কায় পৌঁছলাম। তাই আমি বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ করতে এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সা’ঈ করতে পারিনি। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তোমার চুলের বেণী খুলে ফেল এবং চিরুনী কর, হজের ইহরাম বাঁধ এবং ‘উমরাহ পরিত্যাগ কর। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি তাই করলাম।আমাদের হজের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে (আমার ভাই) ‘আবদুর রহমানের সাথে তান’ঈম নামক স্থানে পাঠালেন। আমি সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে ‘উমরাহ পালন করি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এটা তোমার (ইহরাম বাঁধার) স্থান। যে সব লোক শুধু ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিল, তারা বায়তুল্লাহর ত্বওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সা’ঈ করার পর ইহরামমুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তারা মিনা থেকে ফিরে এসে পুনরায় তাদের হজের ত্বওয়াফ করল আর যারা ‘উমরাহ ও হজের জন্য একত্রে ইহরাম বেঁধেছিল, তারা একবার ত্বওয়াফ করল।

ই.ফা. ২৭৭৭,ই.সে.২৭৭৫

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮০০-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ হাদিসে বিদায় হজ্জের সফরে হজ্জ ও উমরার ইহরাম সম্পর্কে কয়েকটি ঘটনা এসেছে। সাহাবাগণ উমরার জন্য ইহরাম বাঁধেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, যার সঙ্গে হাদি বা কুরবানির পশু আছে, সে যেন উমরার সঙ্গে হজ্জের ইহরামও বাঁধে এবং উভয় কাজ শেষ না করে ইহরাম না খোলে। আয়িশা রাঃ মক্কায় পৌঁছে হায়জ অবস্থায় ছিলেন। তাই তিনি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ করতে পারেননি। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে চুল খুলে চিরুনি করতে, হজ্জের ইহরাম বাঁধতে এবং উমরা স্থগিত রাখতে বলেন। হজ্জ শেষ হলে তাঁকে আবদুর রহমান রাঃ-এর সঙ্গে তানঈম পাঠানো হয় এবং তিনি সেখান থেকে উমরা করেন। হাদিসে আরও এসেছে, শুধু উমরার ইহরামকারীরা তাওয়াফ ও সাঈ শেষে ইহরাম খোলে, আর হজ্জ-উমরা একত্রকারীরা একবার তাওয়াফ করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • হাদি সঙ্গে থাকলে উমরা ও হজ্জ শেষ না করে ইহরামমুক্ত হওয়া যাবে না—এ নির্দেশ এসেছে।
  • হায়জ অবস্থায় আয়িশা রাঃ তাওয়াফ ও সাঈ করতে পারেননি।
  • নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে হজ্জের ইহরাম বাঁধতে এবং পরে তানঈম থেকে উমরা করতে বলেন।
  • হজ্জ ও উমরার ইহরামের ধরন অনুযায়ী আমলের পার্থক্য বর্ণিত হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন