৫১/১৩. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮১৫ - স্ত্রীকে মারধর ও উপহাস থেকে সতর্কতা
অত্যাচারী ও উদ্ধতরা জাহান্নামের আগুনে এবং দুর্বল ও বিনীতরা জান্নাতে প্রবেশ করবে।
স্ত্রীর সঙ্গে ভালো আচরণ: মারধর ও উপহাস থেকে সতর্কতার হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৮১৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৮১৫
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ زَمْعَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ، وَذَكَرَ النَّاقَةَ وَالَّذِي عَقَرَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ﴾إِذِ انْبَعَثَ أَشْقَاهَا﴿ انْبَعَثَ لَهَا رَجُلٌ عَزِيزٌ عَارِمٌ مَنِيعٌ فِي رَهْطِهِ، مِثْلُ أَبِي زَمْعَةَ وَذَكَرَ النِّسَاءَ فَقَالَ: يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ، يَجْلِدُ امْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ، فَلَعَلَّهُ يُضَاجِعُهَا مِنْ آخِرِ يَوْمِهِ ثُمَّ وَعَظَهُمْ فِي ضَحِكِهِمْ مِنَ الضَّرْطَةِ، [ص: 294] وَقَالَ لِمَ يَضْحَكُ أَحَدُكُمْ مِمَّا يَفْعَلُ
‘আবদুল্লাহ ইবনু যাম‘আহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (ﷺ)-কে খুতবা দিতে শুনেছেন, খুতবায় তিনি কওমে সামূদের প্রতি প্রেরিত উষ্ট্রী ও তার পা কাটার কথা উল্লেখ করলেন। তারপর রাসূল (ﷺ) إِذِ انْبَعَثَ أَشْقَاهَا এর ব্যাখ্যায় বললেন, ঐ উষ্ট্রীটিকে হত্যা করার জন্য এক হতভাগ্য শক্তিশালী ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠল যে সে সমাজের মধ্যে আবূ যাম‘আর মত প্রভাবশালী ও অত্যন্ত শক্তিধর ছিল।এ খুতবায় তিনি মেয়েদের সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যে তার স্ত্রীকে ক্রীতদাসের মত মারপিট করে; কিন্তু ঐ দিনের শেষেই সে আবার তার সঙ্গে এক বিছানায় মিলিত হয়। তারপর তিনি বায়ু নিঃসরণের পর হাসি দেয়া সম্পর্কে বললেন, তোমাদের কেউ কেউ হাসে সে কাজটির জন্য যে কাজটি সে নিজেও করে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৫: তাফসীর, অধ্যায় ১, হাঃ ৪৯৪২; মুসলিম, পর্ব ৫১ : জান্নাত, তার বিবরণ, আনন্দ-উপভোগ ও তার বাসিন্দা, অধ্যায় ১৩, হাঃ ২৮৫৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮১৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم-এর খুতবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা এসেছে। তিনি কওমে সামূদের উষ্ট্রী এবং তাকে হত্যা করার জন্য উঠে পড়ে লাগা এক শক্তিশালী হতভাগ্য লোকের কথা উল্লেখ করেন। এরপর তিনি নারীদের সম্পর্কে বলেন, তোমাদের কেউ তার স্ত্রীকে দাসের মতো মারধর করে, অথচ দিনের শেষে আবার তার সঙ্গে একই বিছানায় মিলিত হয়। এরপর তিনি বায়ু নিঃসরণের পর অন্যকে দেখে হাসার বিষয়েও উপদেশ দেন এবং বলেন, কেউ এমন কাজে কেন হাসে, যা সে নিজেও করে। স্ত্রীর সঙ্গে ভালো আচরণ, অন্যকে উপহাস না করা এবং অন্যায় শক্তির অপব্যবহার—এই হাদিসের মূল শিক্ষা। এখানে ভাষা খুব বাস্তব; মানুষকে নিজের আচরণ নিয়ে ভাবতে বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্ত্রীকে দাসের মতো মারধর করা নিন্দিত আচরণ।
- যে কাজ মানুষ নিজেও করে, তা নিয়ে অন্যকে অপমান করা উচিত নয়।
- শক্তি ও প্রভাব অন্যায় কাজে ব্যবহার করা ধ্বংসের পথ হতে পারে।
- খুতবার শিক্ষা হলো নিজের আচরণ আগে ঠিক করা।
