৫২/২৭. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮৬৪ - শিঙ্গার ফুঁক ও পুনরুত্থান
(পুনরুত্থান দিবসে) সিঙ্গায় দুইবার ফুঁক দেয়ার মাঝে সময়ের ব্যবধান।
পুনরুত্থান হাদিস: শিঙ্গার ফুঁক ও মানুষের আবার সৃষ্টি
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৮৬৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৮৬৪
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا بَيْنَ النَّفْخَتَيْنِ أَرْبَعُونَ قَالَ: أَرْبَعُونَ يَوْمًا قَالَ: أَبَيْتُ قَالَ: أَرْبَعُونَ شَهْرًا قَالَ: أَبَيْتُ قَالَ: أَرْبَعُونَ سَنَةً قَالَ: أَبَيْتُ قَالَ: ثُمَّ يُنْزِلُ اللهُ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً، فَيَنْبُتُونَ كَمَا يَنْبُتُ البَقْلُ، لَيْسَ مِنَ الإِنْسَانِ شَيْءٌ إِلاَّ يَبْلَى، إِلاَّ عَظْمًا وَاحِدًا، وَهُوَ عَجْبُ الذَّنَبِ، وَمِنْهُ يُرَكَّبُ الْخَلْقُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, প্রথম ও দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফূৎকারের মধ্যে চল্লিশের ব্যবধান হবে। [আবূ হুরাইরা (রাঃ)]-এর এক ছাত্র বললেন, চল্লিশ বলে চল্লিশ দিন বোঝানো হয়েছে কি? তিনি বলেন, আমি অস্বীকার করলাম। তারপর পুনরায় তিনি জিজ্ঞেস করলেন, চল্লিশ বলে চল্লিশ মাস বোঝানো হয়েছে কি? তিনি বলেন, এবারও অস্বীকার করলাম। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, চল্লিশ বছর বোঝানো হয়েছে কি? তিনি বলেন, এবারও আমি অস্বীকার করলাম।এরপর আল্লাহ্ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করবেন। এতে মৃতরা জীবিত হয়ে উঠবে, যেমন বৃষ্টির পানিতে উদ্ভিদরাজি উৎপন্ন হয়ে থাকে। তখন শিরদাঁড়ার হাড় ছাড়া মানুষের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পচে গলে শেষ হয়ে যাবে। কিয়ামতের দিন ঐ হাড়খণ্ড থেকেই আবার মানুষকে সৃষ্টি করা হবে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৫: তাফসীর, অধ্যায়, হাঃ ৪৯৩৫; মুসলিম, পর্ব ৫২ : ফিতনা এবং তার অশুভ আলামতসমূহ, অধ্যায় ২৭, হাঃ ২৯৫৫
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কিয়ামতের বড় একটি দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শিঙ্গার ফুঁকের মধ্যে চল্লিশের ব্যবধান হবে। কিন্তু সেই চল্লিশ দিন, মাস নাকি বছর—এ বিষয়ে বর্ণনাকারী নির্দিষ্ট করেননি। তাই আমাদেরও নির্দিষ্ট করে বলা ঠিক নয়। এরপর বলা হয়েছে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করবেন, আর মৃতরা উদ্ভিদের মতো জীবিত হয়ে উঠবে। মানুষের দেহ পচে গেলেও শিরদাঁড়ার একটি হাড় অবশিষ্ট থাকবে, এবং কিয়ামতের দিন সেখান থেকেই মানুষকে আবার সৃষ্টি করা হবে। এই হাদিস পুনরুত্থান, কিয়ামত এবং আল্লাহর ক্ষমতার কথা মনে করায়। এটি আমাদের বিনয়ী করে এবং আখিরাতের প্রস্তুতিতে মন দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পুনরুত্থান আল্লাহর ক্ষমতার একটি বড় নিদর্শন।
- যেখানে বর্ণনা নির্দিষ্ট নয়, সেখানে নির্দিষ্ট দাবি করা ঠিক নয়।
- মানুষের দেহ শেষ হলেও আল্লাহ তাকে আবার সৃষ্টি করবেন।
- কিয়ামতের কথা মনে করলে আখিরাতের প্রস্তুতি বাড়ে।
