৫৩/০. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮৬৬ - দারিদ্র্য নয়, দুনিয়ার মোহের ভয়
সংসারের প্রতি অনাসক্তি ও অন্তরের কোমলতা
দুনিয়ার ফিতনা: সম্পদের মোহ ও প্রতিযোগিতা থেকে সতর্কতা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৮৬৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৮৬৬
حديث عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ الأَنْصَارِيِّ، وَهُوَ حَلِيفٌ لِبَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ، وَكَانَ شَهِدَ بَدْرًا قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ إِلَى الْبَحْرَيْنِ يَأتِي بِجِزْيَتِهَا وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، هُوَ صَالَحَ أَهْلَ الْبَحْرَيْنِ، وَأَمَّرَ عَلَيْهِمُ الْعَلاَءَ بْنَ الْحَضْرَمِيِّ فَقَدِمَ أَبُو عُبَيْدَةَ بمَالٍ مِنَ الْبَحْرَيْنِ فَسَمِعَتِ الأَنْصَارُ بِقُدُومِ أَبِي عُبَيْدَةَ فَوَافَتْ صَلاَةَ الصُّبْحِ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا صَلَّى بِهِمُ الْفَجْرَ انْصَرَفَ فَتَعَرَّضُوا لَهُ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حِينَ رَآهُمْ وَقَالَ: أَظُنُّكُم قَدْ سَمِعْتُمْ أَنَّ أَبَا عُبَيْدَةَ قَدْ جَاءَ بِشَيْءٍ [ص: 317] قَالُوا: أَجَلْ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: فَأَبْشِروا وَأَمِّلوا مَا يَسُرُّكُمْ فَوَاللهِ لاَ الْفَقْرَ أَخْشى عَلَيْكُمْ، وَلكِنْ أَخْشى عَلَيْكُمْ أَنْ تُبْسَطَ عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا كَمَا بُسِطَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبلَكُمْ، فَتَنَافَسُوهَا كَمَا تَنَافَسُوهَا، وَتُهْلِكَكُمْ كَمَا أَهْلَكَتْهُمْ
মিস্ওয়ার ইব্নু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘আম্র ইব্নু আউফ আনসারী (রাঃ) যিনি বনী আমির ইব্নু লুয়াইয়ের মিত্র ছিলেন এবং বদর যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তিনি তাঁকে বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আবূ ‘উবাইদাহ ইব্নু জাররাহ (রাঃ)-কে বাহরাইনের জিযিয়া আদায় করার জন্য পাঠালেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাহরাইনবাসীদের সঙ্গে সন্ধি করেছিলেন এবং আলা ইব্নু হাযরামী (রাঃ)-কে তাদের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন। আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) বাহরাইন হতে অর্থ সম্পদ নিয়ে এলেন।আনসারগণ আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ)-এর আগমন বার্তা শুনে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে ফজরের সালাতে সবাই হাজির হন। যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করে ফিরলেন, তখন তারা তাঁর সামনে হাজির হলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাদের দেখে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, আমার মনে হয় তোমরা শুনেছ, আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) কিছু নিয়ে এসেছেন। তারা বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)।আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘সুসংবাদ গ্রহণ কর এবং যা তোমাদের খুশী করে তার আকাঙ্ক্ষা রাখ। আল্লাহ্র কসম! আমি তোমাদের ব্যাপারে দারিদ্র্যের ভয় করি না। কিন্তু তোমাদের ব্যাপারে এ আশঙ্কা করি যে, তোমাদের উপর দুনিয়া এরূপ প্রসারিত হয়ে পড়বে যেমন তোমাদের অগ্রবর্তীদের উপর প্রসারিত হয়েছিল। আর তোমরাও দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে, যেমন তারা আকৃষ্ট হয়েছিল। আর তা তোমাদের বিনাশ করবে, যেমন তাদের বিনাশ করেছে।’
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৮ : জিযইয়াহ কর ও রক্তপণ, অধ্যায় ১, হাঃ ৩১৫৮; মুসলিম, পর্ব ৫৩ : সংসারের প্রতি অনাসক্তি ও অন্তরের কোমলতা, অধ্যায়, হাঃ ২৯৬১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুনিয়ার সম্পদ নিয়ে গভীর সতর্কতা এসেছে। বাহরাইন থেকে সম্পদ আসার খবর শুনে আনসারগণ ফজরের সালাতে উপস্থিত হন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের দেখে মুচকি হাসলেন এবং বুঝলেন, তারা সম্পদের কথা শুনেছেন। এরপর তিনি সুসংবাদ দিলেন, কিন্তু সঙ্গে বড় সতর্কতাও জানালেন। তিনি বললেন, তাঁদের ব্যাপারে দারিদ্র্যের ভয় করেন না; বরং ভয় করেন দুনিয়া তাদের উপর খুলে দেওয়া হবে, তারা তাতে প্রতিযোগিতা করবে এবং আগের লোকদের মতো ক্ষতির মুখে পড়বে। এই হাদিস সম্পদকে হারাম বলে না। বরং দুনিয়ার মোহ, লোভ ও প্রতিযোগিতার বিপদ দেখায়। মুমিনের জন্য সম্পদ নেয়ামত হতে পারে, যদি তা আল্লাহর আনুগত্য থেকে দূরে না নেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দারিদ্র্য যেমন পরীক্ষা, সম্পদের প্রসারও পরীক্ষা।
- দুনিয়ার প্রতিযোগিতা মানুষের মনকে আখিরাত থেকে দূরে নিতে পারে।
- সম্পদ আসলে কৃতজ্ঞতা ও সংযম দরকার।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) উম্মতের জন্য দুনিয়ার মোহকে বড় ভয় করেছেন।
