৫৩/০. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮৭৫ - তিনদিন পেট ভরে না খাওয়ার শিক্ষা
সংসারের প্রতি অনাসক্তি ও অন্তরের কোমলতা
নবী পরিবারের যুহদ: তিনদিন পেট ভরে না খাওয়ার হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৮৭৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৮৭৫
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: مَا شَبِعَ آلُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مِنْ طَعَامٍ، ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ، حَتَّى قُبِضَ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর পরিবার তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত একাধারে তিনদিন আহার করে পরিতৃপ্ত হননি।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭০ : খাওয়া-খাদ্য, অধ্যায় ১, হাঃ ৫৩৭৪; মুসলিম, পর্ব ৫৩ : সংসারের প্রতি অনাসক্তি ও অন্তরের কোমলতা, অধ্যায়, হাঃ ২৯৭৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم)-এর পরিবার তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত একাধারে তিন দিন খাবার খেয়ে পরিতৃপ্ত হননি। এটি নবী পরিবারের জীবন কতটা সরল ছিল, তা বুঝিয়ে দেয়। এই বর্ণনা পড়ে মানুষ নিজের খাবার, আরাম ও সুযোগের কথা নতুনভাবে ভাবতে পারে। হাদিসটি আমাদের অভাব চাইতে বলে না; বরং দুনিয়ার ভোগকে জীবনের বড় লক্ষ্য বানাতে নিষেধের শিক্ষা দেয়। নবী পরিবার কষ্টের মধ্যেও ধৈর্য রেখেছেন। তাই আমাদের খাবার কম হলে অভিযোগের আগে ধৈর্য দরকার, আর খাবার বেশি হলে শোকর দরকার। যুহদ মানে দুনিয়া ছেড়ে দেওয়া নয়; বরং দুনিয়ার জিনিসকে হৃদয়ের মালিক না বানানো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী পরিবারের জীবনে সরলতা ও ধৈর্য ছিল।
- খাবারের নেয়ামত পেলে আল্লাহর শোকর করা জরুরি।
- অভাব এলে ধৈর্য রাখা নবীজির ঘর থেকে শেখা যায়।
- দুনিয়ার ভোগকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বানানো ঠিক নয়।
