১৬/৪৩. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৯৭০ - সাফা-মারওয়া সাঈ না করার ভুল ধারণা

সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো (সা‘ঈ) হাজ্জের অন্যতম রুকন, এ ছাড়া হাজ্জ শুদ্ধ হয় না

সাঈ বাদ দেওয়া নিয়ে আয়িশা (রাঃ)-এর জবাব

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৯৭০

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ، قُلْتُ لِعَائِشَةَ مَا أَرَى عَلَىَّ جُنَاحًا أَنْ لاَ أَتَطَوَّفَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ . قَالَتْ لِمَ قُلْتُ لأَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ ﴾ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} الآيَةَ .فَقَالَتْ لَوْ كَانَ كَمَا تَقُولُ لَكَانَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لاَ يَطَّوَّفَ بِهِمَا . إِنَّمَا أُنْزِلَ هَذَا فِي أُنَاسٍ مِنَ الأَنْصَارِ كَانُوا إِذَا أَهَلُّوا أَهَلُّوا لِمَنَاةَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَلاَ يَحِلُّ لَهُمْ أَنْ يَطَّوَّفُوا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَلَمَّا قَدِمُوا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ لِلْحَجِّ ذَكَرُوا ذَلِكَ لَهُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى هَذِهِ الآيَةَ فَلَعَمْرِي مَا أَتَمَّ اللَّهُ حَجَّ مَنْ لَمْ يَطُفْ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ .

‘উরওয়াহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম, আমি যদি সাফা-মারওয়ার মাঝে সা‘ঈ না করি তবে এতে আমার জন্য কোন দোষ মনে করি না। তিনি বললেন, কেন? আমি বললাম, কেননা মহামহিম আল্লাহ বলেন: “সাফা-মারওয়াহ্ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম ....।” তখন ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, তুমি যেরূপ বলছ, যদি তাই হতো, তবে আয়াতের বক্তব্য এরূপ হতো : “এ দুই পাহাড়ের মাঝে না দৌড়ালে কোন দোষ নেই।”এ আয়াত আনসারদের সম্পর্কে নাযিল করা হয়। জাহিলী যুগে তারা যখন লাব্বায়কা বলত- তা মানাৎ দেবীর নামে লাব্বায়কা ধ্বনি করত। তাই তারা মনে করত যে, সাফা-মারওয়ার মাঝে সা‘ঈ করা তাদের জন্য ঠিক নয়। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে (বিদায়) হজ্জে এসে তাঁর নিকট এ বিষয়ে উল্লেখ করলে আল্লাহ উপরোক্ত আয়াত নাযিল করেন। অতএব আমার জীবনের শপথ! যে সাফা-মারওয়ার মাঝে সা‘ঈ না করে- আল্লাহ তার হজ্জ পূর্ণ করবেন না।

ই.ফা. ২৯৪৬, ই.সে. ২৯৪৪

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৯৭০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করার ধারণাকে আয়িশা (রাঃ) স্পষ্টভাবে সংশোধন করেছেন। প্রশ্নকারী বলেন, তিনি সাঈ না করাকে দোষ মনে করেন না, কারণ আল্লাহ বলেছেন, সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তুমি যেভাবে বুঝেছ, যদি তাই হতো, তবে আয়াতের ভাষা হতো—এ দুই পাহাড়ের মাঝে না দৌড়ালে কোনো দোষ নেই। তিনি জানান, এই আয়াত আনসারদের ব্যাপারে নাযিল হয়। জাহিলী যুগে তারা মানাত দেবীর নামে লাব্বায়কা বলত। তাই তারা সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করাকে ঠিক মনে করত না। পরে তারা নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে বিষয়টি জানালে আয়াত নাযিল হয়। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, সাঈ হজ্জের পূর্ণতার সঙ্গে জড়িত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সাফা-মারওয়া সাঈকে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
  • আয়াতের অর্থ নিজের ধারণা দিয়ে নয়, সঠিক ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝতে হয়।
  • সাহাবিরা দ্বিধা হলে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে জিজ্ঞেস করতেন।
  • জাহিলী যুগের ভুল ধারণা ইসলামের নির্দেশে বদলে যায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন