১৬/৪৩. অধ্যায়ঃ
সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো (সা‘ঈ) হাজ্জের অন্যতম রুকন, এ ছাড়া হাজ্জ শুদ্ধ হয় না
সহিহ মুসলিম : ২৯৭১
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৯৭১
حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، - قَالَ ابْنُ أَبِي عُمَرَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، - قَالَ سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَا أَرَى عَلَى أَحَدٍ لَمْ يَطُفْ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ شَيْئًا وَمَا أُبَالِي أَنْ لاَ أَطُوفَ بَيْنَهُمَا . قَالَتْ بِئْسَ مَا قُلْتَ يَا ابْنَ أُخْتِي طَافَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَطَافَ الْمُسْلِمُونَ فَكَانَتْ سُنَّةً وَإِنَّمَا كَانَ مَنْ أَهَلَّ لِمَنَاةَ الطَّاغِيَةِ الَّتِي بِالْمُشَلَّلِ لاَ يَطُوفُونَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَلَمَّا كَانَ الإِسْلاَمُ سَأَلْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ { إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا} وَلَوْ كَانَتْ كَمَا تَقُولُ لَكَانَتْ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لاَ يَطَّوَّفَ بِهِمَا . قَالَ الزُّهْرِيُّ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لأَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ فَأَعْجَبَهُ ذَلِكَ . وَقَالَ إِنَّ هَذَا الْعِلْمُ . وَلَقَدْ سَمِعْتُ رِجَالاً مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ يَقُولُونَ إِنَّمَا كَانَ مَنْ لاَ يَطُوفُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ مِنَ الْعَرَبِ يَقُولُونَ إِنَّ طَوَافَنَا بَيْنَ هَذَيْنِ الْحَجَرَيْنِ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ . وَقَالَ آخَرُونَ مِنَ الأَنْصَارِ إِنَّمَا أُمِرْنَا بِالطَّوَافِ بِالْبَيْتِ وَلَمْ نُؤْمَرْ بِهِ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ { إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} . قَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَأُرَاهَا قَدْ نَزَلَتْ فِي هَؤُلاَءِ وَهَؤُلاَءِ .
‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম, “কোনো ব্যক্তি সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করলে এতে আমি দোষের কিছু দেখি না এবং আমি নিজেও এতদুভয়ের মাঝে সাঈ বর্জন করায় কিছু মনে করি না।”আয়িশা (রাঃ) বললেন, “হে বোনপুত্র! তুমি যা বলেছ তা মন্দ বলেছ। রসূলুল্লাহ (ﷺ) (সাফা-মারওয়ার মাঝে) তওয়াফ (সাঈ) করেছেন এবং মুসলিমরাও তওয়াফ করেছে। অতএব, তা সুন্নাত। যে সব লোক (জাহিলি যুগে) ‘মুশাল্লাল’ নামক স্থানে অবস্থিত নাফরমান মানাত দেবীর নামে ইহরাম বাঁধত, তারা সাফা ও মারওয়ার মাঝে তওয়াফ করত না। ইসলামের আবির্ভাবের পর আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। তখন আল্লাহ তা'আলা নিম্নোক্ত আয়াত নাজিল করেন, ‘সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কেউ কাবা ঘরের হজ্জ কিংবা উমরা পালন করে, এ দুটির মধ্যে প্রদক্ষিণ করলে এতে তার কোনো পাপ নেই .....’ – (সূরা আল বাক্বারাহ ২ :১৫৮)। তুমি যা বলেছ, ব্যাপারটি যদি তদ্রূপ হতো তবে বলা হতো, ‘এ দুটির মধ্যে প্রদক্ষিণ না করলে তার কোনো পাপ নেই।’”ইমাম যুহরি (রহঃ) বলেন, “এ প্রসঙ্গটি আমি আবু বকর ইবনু আবদুর রহমান ইবনু হারিস ইবনু হিশামের কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি তাতে বিস্মিত হলেন এবং বললেন, ‘এর নামই জ্ঞান।’”তিনি আরও বললেন, “জ্ঞানবান সমাজের অনেক লোককে বলতে শুনেছি–সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফ বর্জনকারী আরবের অধিবাসীরা বলত, ‘এ দুই পাথরের মাঝে তওয়াফ করা জাহিলী যুগের কাজ।’ আর আনসার সম্প্রদায়ের লোকেরা বলত, ‘আমাদেরকে বায়তুল্লাহ তওয়াফের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফের নির্দেশ দেয়া হয়নি।’” এ প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তা'আলা নাজিল করলেন: “সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম।” আবু বকর ইবনু আবদুর রহমান বলেন, “আমিও মনে করি যে, উল্লেখিত দুই সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে উপরোক্ত আয়াত নাজিল হয়েছে।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৯৪৭, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৯৪৫
