১৬/৪৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৯৭২ - সাফা-মারওয়া সাঈ বিধিবদ্ধ
সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো (সা‘ঈ) হাজ্জের অন্যতম রুকন, এ ছাড়া হাজ্জ শুদ্ধ হয় না
সাফা-মারওয়া সাঈ ছেড়ে দেওয়ার অধিকার নেই
সহীহ মুসলিম : ২৯৭২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৯৭২
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا حُجَيْنُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ، شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ .وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِهِ وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ فَلَمَّا سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَنْ ذَلِكَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا نَتَحَرَّجُ أَنْ نَطُوفَ بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ { إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا﴿ قَالَتْ عَائِشَةُ قَدْ سَنَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الطَّوَافَ بَيْنَهُمَا فَلَيْسَ لأَحَدٍ أَنْ يَتْرُكَ الطَّوَافَ بِهِمَا.
‘উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম .... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে- তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করতে গিয়ে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমরা সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফকে খারাপ করি। তখন আল্লাহ তা’আলা নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করেন : “সাফা-মারওয়াহ্ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কেউ বায়তুল্লাহর হজ্জ কিংবা ‘উমরাহ্ পালন করে- এ দুটির মাঝে তাওয়াফ করলে তার কোন দোষ নেই।” ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এতদুভয়ের মাঝে তাওয়াফ করাকে বিধিবদ্ধ করেছেন। অতএব এতদুভয়ের মাঝে তাওয়াফ বর্জন করার কারো অধিকার নেই।
ই.ফা. ২৯৪৮, ই.সে. ২৯৪৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৯৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আগের হাদিসের একই বিষয় আরও সংক্ষেপে এসেছে। লোকেরা রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে বলেছিল, আমরা সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফ করতে সংকোচ বোধ করি। তখন আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন—সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম; যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহর হজ্জ বা উমরাহ পালন করে, সে এ দুটির মাঝে তওয়াফ করলে তার কোনো দোষ নেই। এরপর আয়িশা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এ দুটির মাঝে তওয়াফ বা সাঈকে বিধিবদ্ধ করেছেন। তাই কারো জন্য এটি বর্জন করার সুযোগ নেই। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, সাফা-মারওয়া সাঈ কোনো জাহিলী কাজ নয়; বরং আল্লাহর নিদর্শনের সঙ্গে যুক্ত একটি আমল, যা নবী صلى الله عليه وسلم-এর মাধ্যমে মুসলিমদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাফা-মারওয়া সাঈ নবী صلى الله عليه وسلم-এর বিধিবদ্ধ আমল।
- ধর্মীয় দ্বিধা হলে সঠিক জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞেস করা দরকার।
- আল্লাহর নিদর্শনকে জাহিলী ধারণার কারণে অপছন্দ করা ঠিক নয়।
- হজ্জ ও উমরার আমলে নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ মানতে হয়।
