১৬/৪৩. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৯৭৩ - মানাত রীতি ও সাফা-মারওয়া সাঈ

সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো (সা‘ঈ) হাজ্জের অন্যতম রুকন, এ ছাড়া হাজ্জ শুদ্ধ হয় না

পুরোনো রীতি ছেড়ে সাফা-মারওয়া সাঈ

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৯৭৩

وَحَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ الأَنْصَارَ كَانُوا قَبْلَ أَنْ يُسْلِمُوا هُمْ وَغَسَّانُ يُهِلُّونَ لِمَنَاةَ فَتَحَرَّجُوا أَنْ يَطُوفُوا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَكَانَ ذَلِكَ سُنَّةً فِي آبَائِهِمْ مَنْ أَحْرَمَ لِمَنَاةَ لَمْ يَطُفْ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَإِنَّهُمْ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَنْ ذَلِكَ حِينَ أَسْلَمُوا فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي ذَلِكَ ﴾ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ﴿

‘উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

‘আয়িশা (রাঃ) তাঁকে অভিহিত করেছেন যে, আনসার সম্প্রদায় ও গাস্সান গোত্রের নিয়ম ছিল, তারা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মানাৎ দেবীর জন্য ইহরাম বাঁধত। অতএব তারা সাফা-মারওয়ার মাঝে সা‘ঈ করাকে পাপ মনে করত। এটা ছিল তাদের পূর্ব-পুরুষদের রীতি যে, তাদের কোন ব্যক্তি মানাৎ দেবীর জন্য ইহরাম বাঁধলে সাফা-মারওয়ার মাঝে ত্বওয়াফ করত না। তারা ইসলাম গ্রহণের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে।তখন এ প্রসঙ্গে মহামহিম আল্লাহ নাযিল করেন : “সাফা-মারওয়াহ্ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। অতএব যে কেউ বায়তুল্লাহর হজ্জ অথবা ‘উমরাহ্ পালন করে, এতদুভয়ের মাঝে ত্বওয়াফ করলে তার কোন দোষ নেই এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করলে আল্লাহ পুরস্কারদাতা ও সর্বজ্ঞ” – (সূরা আল বাক্বারাহ্ ২ : ১৫৮)

ই.ফা. ২৯৪৯, ই.সে. ২৯৪৭

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৯৭৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) জানিয়েছেন, আনসার সম্প্রদায় ও গাসসান গোত্র ইসলাম গ্রহণের আগে মানাত দেবীর জন্য ইহরাম বাঁধত। তাদের পূর্বপুরুষদের রীতি ছিল, কেউ মানাতের জন্য ইহরাম বাঁধলে সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফ করত না। তাই ইসলাম গ্রহণের পর তারা সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করাকে পাপ মনে করত। তারা বিষয়টি রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন—সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। যে কেউ বাইতুল্লাহর হজ্জ বা উমরাহ করে, সে এ দুটির মাঝে তওয়াফ করলে তার কোনো দোষ নেই। এই হাদিস সাফা-মারওয়া সাঈর পেছনের একটি সরাসরি বর্ণিত কারণ জানায় এবং দেখায়, ইসলামে সঠিক নির্দেশ আসার পর পুরোনো ভুল রীতি ছাড়তে হয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • পুরোনো সমাজের রীতি ইসলামের নির্দেশের মানদণ্ড নয়।
  • সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন—এ কথা আয়াতে স্পষ্ট হয়েছে।
  • ভুল ধারণা থাকলে তা নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশে সংশোধন করতে হয়।
  • হজ্জ ও উমরায় সাঈকে পাপ মনে করার ধারণা ভুল ছিল।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন