৫৪/০. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮৯৭ - ইয়াতীমের সম্পদ
তাফসীর
ইয়াতীমের সম্পদ: অভিভাবকের জন্য সৎ ও সীমিত ব্যবহারের শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৮৯৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৮৯৭
حديث عَائِشَةَ قَالَتْ: (وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ، وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ) أُنْزِلَتْ فِي وَالِي الْيَتِيمِ الَّذِي يُقِيمُ عَلَيْهِ، وَيُصْلِحُ فِي مَالِهِ، إِنْ كَانَ فَقِيرًا أَكَلَ مِنْهُ بِالْمَعْرُوفِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোরআনের আয়াতঃ“যে অভাবমুক্ত সে যেন নিবৃত্ত থাকে এবং যে অভাবগ্রস্ত সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে” (সূরা আন-নিসা ৪/৬)।ইয়াতীমের ঐ অভিভাবক সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়, যে তার তত্ত্বাবধান করে ও তার সম্পত্তির পরিচর্যা করে, সে যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে তা হতে নিয়মমাফিক খেতে পারবে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩৪; ক্রয়-বিক্রয়, অধ্যায় ৯৫, হাঃ ২২১২; মুসলিম, পর্ব ৫৪ : তাফসীর, হাঃ ৩০১৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮৯৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ইয়াতীমের সম্পদ। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আয়াত—যে অভাবমুক্ত সে যেন বিরত থাকে, আর যে অভাবগ্রস্ত সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে—ইয়াতীমের অভিভাবক সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। যে অভিভাবক ইয়াতীমের দেখাশোনা করে এবং তার সম্পত্তির পরিচর্যা করে, সে যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে নিয়মমাফিক তা থেকে খেতে পারে। এই হাদিসে দুইটি দিক পরিষ্কার। প্রথমত, সচ্ছল অভিভাবকের ইয়াতীমের সম্পদ থেকে নেওয়া উচিত নয়। দ্বিতীয়ত, দরিদ্র অভিভাবক যদি বাস্তবে তার তত্ত্বাবধান ও সম্পদ দেখাশোনা করে, তবে সে মাত্রা রেখে নিতে পারে। তাই ইয়াতীমের সম্পদের আমানত, অভিভাবকের দায়িত্ব এবং সীমা মানার শিক্ষা এখানে খুব স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইয়াতীমের সম্পদ আমানত হিসেবে রক্ষা করা উচিত।
- সচ্ছল অভিভাবকের তা থেকে বিরত থাকা দরকার।
- অভাবী অভিভাবক হলে নিয়মমাফিক সীমিতভাবে নিতে পারে।
- অভিভাবকের দায়িত্ব হলো ইয়াতীমের সম্পদ ঠিকভাবে দেখাশোনা করা।
