৩৪/৯৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২২১২ - ইয়াতীমের সম্পদে অভিভাবকের সীমা
ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা, মাপ ও ওজন ইত্যাদি প্রত্যেক শহরে প্রচলিত রসম ও নিয়ম গ্রহণযোগ্য। এ বিষয়ে তাদের নিয়্যত ও প্রসিদ্ধ পন্থাই অবলম্বন করা হবে।
ইয়াতীমের সম্পদ ব্যবহারে অভিভাবকের ন্যায়সীমা
সহীহ বুখারী : ২২১২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২২১২
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، قَالَ سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ فَرْقَدٍ، قَالَ سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ عُرْوَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ تَقُولُ ﴾وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ﴿ أُنْزِلَتْ فِي وَالِي الْيَتِيمِ الَّذِي يُقِيمُ عَلَيْهِ، وَيُصْلِحُ فِي مَالِهِ، إِنْ كَانَ فَقِيرًا أَكَلَ مِنْهُ بِالْمَعْرُوفِ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোরআনের আয়াতঃ “যে অভাবমুক্ত সে যেন নিবৃত্ত থাকে এবং যে অভাবগ্রস্ত সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে”- (আন-নিসা ৬)।ইয়াতীমের ঐ অভিভাবক সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়, যে তার তত্ত্বাবধান করে ও তার সম্পত্তির পরিচর্যা করে, সে যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে তা হতে নিয়মমাফিক খেতে পারবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ২২১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) সূরা আন-নিসার একটি আয়াতের ব্যাখ্যা করেন। আয়াতে বলা হয়েছে, যে অভাবমুক্ত সে যেন নিবৃত্ত থাকে, আর যে অভাবগ্রস্ত সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে। আয়িশা (রাঃ) জানান, এটি সেই ইয়াতীমের অভিভাবক সম্পর্কে, যে ইয়াতীমের দেখাশোনা করে এবং তার সম্পত্তির পরিচর্যা করে। যদি সে অভাবী হয়, তবে নিয়মমাফিক তা থেকে খেতে পারবে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ইয়াতীমের সম্পদ নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার করা নয়। অভিভাবক যদি স্বচ্ছল হয়, সে বিরত থাকবে। আর অভাবী হলে কাজ ও প্রয়োজনের সীমায় সঙ্গতভাবে গ্রহণ করবে। হাদিসটি ইয়াতীমের সম্পদ রক্ষায় সততা, দায়িত্ব ও সংযম শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইয়াতীমের সম্পদ অভিভাবকের ব্যক্তিগত সম্পদ নয়।
- স্বচ্ছল অভিভাবককে ইয়াতীমের সম্পদ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
- অভাবী অভিভাবক নিয়মমাফিক সীমিতভাবে নিতে পারে।
- ইয়াতীমের সম্পত্তির পরিচর্যায় সততা জরুরি।
