৫৫/২২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৬৫ - ইয়াতীমের সম্পদ ব্যবহারের সীমা
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ
﴾وَابْتَلُوا الْيَتَامَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ وَلَا تَأْكُلُوهَا إِسْرَافًا وَبِدَارًا أَنْ يَكْبَرُوا وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ فَإِذَا دَفَعْتُمْ إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ فَأَشْهِدُوا عَلَيْهِمْ وَكَفَى بِاللَّهِ حَسِيبًا لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيبًا مَفْرُوضًا﴿ (النساء : ٦-٧) حَسِيبًا يَعْنِي كَافِيًا وَلِلْوَصِيِّ أَنْ يَعْمَلَ فِي مَالِ الْيَتِيمِ وَمَا يَأْكُلُ مِنْهُ بِقَدْرِ عَمَالَتِهِআর তোমরা ইয়াতীমদের পরীক্ষা করে নিবে, যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের বয়সে পৌঁছে। যদি তাদের মধ্যে ভাল-মন্দ বিচারের জ্ঞান দেখতে পাও, তবে তাদের মাল তাদের হাতে ফিরিয়ে দিবে। ইয়াতিমের মাল প্রয়োজনাতিরিক্ত খরচ কর না এবং তারা বড় হয়ে যাবে মনে করে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেল না। যে স্বচ্ছল সে যেন ইয়াতিমের মাল খরচ করা থেকে বিরত থাকে এবং যে অভাবগ্রস্ত সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে। যখন তোমরা তাদের হাতে তাদের সম্পদ প্রত্যর্পণ করবে, তখন সাক্ষী রাখবে।অবশ্যই হিসাব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট। পুরুষদের জন্য অংশ আছে সে সম্পত্তিতে যা পিতা-মাতা ও নিকট আত্মীয়রা রেখে যায়; এবং নারীদের জন্যও অংশ আছে সে সম্পত্তিতে যা পিতা-মাতা ও নিকট-আত্মীয়রা রেখে যায়, হোক তা অল্প কিংবা বেশী। তা অকাট্য নির্ধারিত অংশ। (আন নিসা : ৬-৭)।حَسِيبًا অর্থ যথেষ্ট আর অসী ইয়াতীমের মাল কীভাবে ব্যবহার করবে এবং তার শ্রমের অনুপাতে কী পরিমাণ সে ভোগ করতে পারবে।"
ইয়াতীমের সম্পদ: অভিভাবকের জন্য ন্যায়সঙ্গত সীমা
সহীহ বুখারী : ২৭৬৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭৬৫
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها – ﴾وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ﴿. قَالَتْ أُنْزِلَتْ فِي وَالِي الْيَتِيمِ أَنْ يُصِيبَ مِنْ مَالِهِ إِذَا كَانَ مُحْتَاجًا بِقَدْرِ مَالِهِ بِالْمَعْرُوفِ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ) যে বিত্তবান সে যেন বিরত থাকে আর যে বিত্তহীন সে যেন সংগত পরিমাণ ভোগ করে (৪:৬)।আয়াতটি ইয়াতীমের অভিভাবক সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে। অভিভাবক যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তাহলে ন্যায়সঙ্গতভাবে ইয়াতীমের সম্পত্তি থেকে খেতে পারবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা আন-নিসার একটি আয়াতের ব্যাখ্যা এসেছে। আয়াতে বলা হয়েছে, যে অভিভাবক ধনী সে যেন ইয়াতীমের সম্পদ থেকে বিরত থাকে। আর যে দরিদ্র, সে যেন সংগত পরিমাণ ভোগ করে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, এই আয়াত ইয়াতীমের অভিভাবক সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। অর্থাৎ অভিভাবক যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তাহলে সে ইয়াতীমের সম্পদ থেকে ন্যায্যভাবে খেতে পারে। এখানে সীমাহীন ব্যবহার বা নিজের সম্পদের মতো ভোগ করার অনুমতি নেই। মূল কথা হলো—ইয়াতীমের সম্পদ নিরাপদ রাখা, অভিভাবকের প্রয়োজন বুঝে সঙ্গত ব্যবহার করা এবং অন্যায়ভাবে গ্রাস না করা। ইয়াতীমের সম্পদ হাদিস ও অভিভাবকের দায়িত্ব বিষয়ে এই বর্ণনা খুব পরিষ্কার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ধনী অভিভাবকের উচিত ইয়াতীমের সম্পদ থেকে বিরত থাকা।
- দরিদ্র অভিভাবক প্রয়োজন হলে ন্যায়সঙ্গতভাবে খেতে পারে।
- ইয়াতীমের সম্পদ ব্যক্তিগত লোভের জায়গা নয়।
- অভিভাবকের দায়িত্ব হলো ইয়াতীমের কল্যাণ দেখা।
