৫৫/২৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৬৭ - ইয়াতীমের কল্যাণে অভিভাবকের দায়িত্ব

আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ

﴾وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَى قُلْ إِصْلَاحٌ لَهُمْ خَيْرٌ وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ الْمُفْسِدَ مِنَ الْمُصْلِحِ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَعْنَتَكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ﴿ (النساء : ٢٢٠তারা আপনাকে ইয়াতিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন: তাদের সুব্যবস্থা করা উত্তম। তবে যদি তোমরা তাদের সাথে মিলেমিশে একত্রে থাক তাহলে মনে করবে তারা তো তোমাদের ভাই। আর আল্লাহ জানেন কে ফাসাদ সৃষ্টিকারী এবং কে মঙ্গলকামী। আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদের কষ্টে ফেলতে পারতেন। নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। (আল-বাকারা ২২০)لَأَعْنَتَكُمْ এর অর্থ তোমাদের ক্ষতিগ্রস্ত এবং কষ্টে ফেলতে পারতেন। (১১১ : طه) وَعَنَتِ শব্দের অর্থ: নত হল।"

ইয়াতীমের কল্যাণ: মাল ব্যবস্থাপনায় সততা ও পরামর্শ

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭৬৭

وَقَالَ لَنَا سُلَيْمَانُ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ مَا رَدَّ ابْنُ عُمَرَ عَلَى أَحَدٍ وَصِيَّةً. وَكَانَ ابْنُ سِيرِينَ أَحَبَّ الأَشْيَاءِ إِلَيْهِ فِي مَالِ الْيَتِيمِ أَنْ يَجْتَمِعَ إِلَيْهِ نُصَحَاؤُهُ وَأَوْلِيَاؤُهُ فَيَنْظُرُوا الَّذِي هُوَ خَيْرٌ لَهُ. وَكَانَ طَاوُسٌ إِذَا سُئِلَ عَنْ شَىْءٍ مِنْ أَمْرِ الْيَتَامَى قَرَأَ ﴾وَاللَّهُ يَعْلَمُ الْمُفْسِدَ مِنَ الْمُصْلِحِ﴿. وَقَالَ عَطَاءٌ فِي يَتَامَى الصَّغِيرُ وَالْكَبِيرُ يُنْفِقُ الْوَلِيُّ عَلَى كُلِّ إِنْسَانٍ بِقَدْرِهِ مِنْ حِصَّتِهِ.

নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) কখনো কারো অসীয়ত প্রত্যাখ্যান করেননি। ইব্‌নু সীরীন (রহঃ) -এর নিকট ইয়াতীমের মাল সম্পর্কে সবচেয়ে প্রিয় বিষয় ছিল, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের একত্রিত হওয়া, যাতে তারা তার কল্যাণের কথা বিবেচনা করে। তাউস (রহঃ) -এর নিকট ইয়াতীমের ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করা হলে তিনি পাঠ করতেনঃ “আল্লাহ জানেন কে হিতকারী আর কে অনিষ্টকারী।” (আল-বাকারা ২২০) ‘আত্বা (রহঃ) বলেন, ইয়াতীম ছোট হোক কিংবা বড়, অভিভাবক তার অংশ থেকে প্রত্যেকের জন্য পরিমাণ মত ব্যয় করতে পারবে।

সহীহ বুখারী হাদিস ২৭৬৭-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় ইয়াতীমের মাল ও অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে কয়েকজন আলেমের আমল ও মত এসেছে। ইবন সিরীন (রহঃ)-এর কাছে পছন্দনীয় ছিল, ইয়াতীমের অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা একত্র হয়ে তার কল্যাণের কথা বিবেচনা করবে। তাউস (রহঃ) ইয়াতীমের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আয়াত পড়তেন—আল্লাহ জানেন কে হিতকারী আর কে অনিষ্টকারী। আতা (রহঃ) বলেন, ইয়াতীম ছোট হোক বা বড়, অভিভাবক তার অংশ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করতে পারে। এখানে মূল শিক্ষা হলো ইয়াতীমের সম্পদ নিজের ইচ্ছামতো নয়, বরং কল্যাণ, সততা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা করা। ইয়াতীমের মাল ব্যবস্থাপনা ও অভিভাবকের দায়িত্ব বুঝতে এই বর্ণনা খুব কার্যকর।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইয়াতীমের কল্যাণকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
  • অভিভাবক একা নয়, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারে।
  • প্রত্যেক ইয়াতীমের অংশ থেকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করা যায়।
  • আল্লাহ জানেন কে সত্যিকারের কল্যাণ চায় আর কে ক্ষতি করে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন