১/১৯. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৩০ - প্রতিবেশী, মেহমানদারী ও ভালো কথার শিক্ষা
প্রতিবেশী ও মেহমানকে সম্মান করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান এবং ভালো কথা বলা অথবা চুপ থাকার আবশ্যকতা আর এগুলোর প্রতিটি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিবেশীর অধিকার, মেহমানদারী ও ভালো কথা বলার হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৩০
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৩০
حديث أَبي شُرَيْحٍ الْعَدَوِيّ قَالَ: سَمِعَتْ أُذُنَايَ وَأَبْصَرَتْ عَيْنَايَ حِينَ تَكَلَّمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ جَارَهُ، وَمَنْ كانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جائِزَتُهُ، قَالَ: وَما جاِئِزَتُهُ يا رَسُولَ اللهِ قالَ: يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ، وَالضِّيافَةُ َثلاثَةُ أَيَّامٍ فَما كانَ َوراءَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ َعلَيْهِ، وَمَنْ كانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ
আবূ শুরায়হ ‘আদাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বলেন তখন আমার দুইচক্ষু দেখেছে এবং দুইকান শুনেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে যেন তার মেহমানকে তার জায়েযাহ স্বরূপ সম্মান করে। আবূ শুরায়হ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! জায়িযাহ কী? তিনি (ﷺ) বললেন, একদিন একরাত। মেহমানদারী তিন দিন, এর পরে (অর্থাৎ তিন দিনের অতিরিক্ত দিনগুলো) তার জন্য সদাকাহ। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৮; আদব-আচার, অধ্যায় ৩১, হাঃ ৬০১৯; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ১৯, হাঃ ৪৮
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ঈমানের সঙ্গে তিনটি সুন্দর আচরণকে জুড়ে দিয়েছেন। প্রথম শিক্ষা হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে প্রতিবেশীকে সম্মান করবে। অর্থাৎ পাশে থাকা মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা ঈমানি আখলাকের অংশ। দ্বিতীয় শিক্ষা হলো মেহমানদারী। হাদিসে বলা হয়েছে, মেহমানকে তার জায়িযাহ বা বিশেষ সম্মান দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ব্যাখ্যা করেছেন, জায়িযাহ হলো একদিন একরাত। আর সাধারণ মেহমানদারী তিন দিন। এর বেশি হলে তা মেহমানের প্রতি সদাকাহ হিসেবে ধরা হবে। তৃতীয় শিক্ষা হলো কথার হেফাজত। একজন মুমিন ভালো কথা বলবে, আর ভালো কথা না হলে চুপ থাকবে। তাই এই হাদিস আমাদের প্রতিবেশীর অধিকার, মেহমানের সম্মান এবং ভালো কথা বলার গুরুত্ব খুব সহজভাবে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসের দাবি হলো প্রতিবেশীকে সম্মান করা।
- মেহমানকে অন্তত তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়া উচিত; হাদিসে একদিন একরাতকে জায়িযাহ বলা হয়েছে।
- সাধারণ মেহমানদারী তিন দিন; এর বেশি হলে তা সদাকাহ হিসেবে গণ্য হয়।
- ভালো কথা বলা উচিত, আর ভালো কথা না হলে চুপ থাকা নিরাপদ পথ।
