৫/৭. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৩১১ - সলাতে সালামের জবাব না দেওয়া
সালাতে কথা বলা নিষিদ্ধ এবং তা (কথা বলা)র বৈধতা রহিত হওয়া প্রসঙ্গে।
সলাতে সালামের জবাব: নামাজে মনোযোগ ও নীরবতার শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৩১১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৩১১
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا نُسَلِّمُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ فَيَرُدُّ عَلَيْنَا، فَلَمَّا رَجَعْنَا مِنْ عِنْدِ النَّجَاشِيِّ سَلَّمْنَا عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْنَا، وَقَالَ: إِنَّ فِي الصَّلاَةِ شُغْلاً
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা নবী (ﷺ)-কে তাঁর সালাতরত অবস্থায় সালাম করতাম; তিনি আমাদের সালামের জবাব দিতেন। পরে যখন আমরা নাজাশীর নিকট হতে ফিরে এলাম, তখন তাঁকে (সালাত আদায়রত অবস্থায়) সালাম করলে তিনি আমাদের সালামের জবাব দিলেন না এবং পরে ইরশাদ করলেনঃ সালাতে অনেক ব্যস্ততা ও নিমগ্নতা রয়েছে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২১: সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ, অধ্যায় ২, হাঃ ১১৯৯; মুসলিম, পর্ব ৫; মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহের বর্ণনা, অধ্যায় ৭, হাঃ ৫৩৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৩১১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সলাতের ভেতরে সালামের জবাবের বিষয়ে পরিবর্তিত আমল এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, তারা নবী صلى الله عليه وسلم-কে সলাতরত অবস্থায় সালাম করতেন, আর তিনি জবাব দিতেন। পরে তারা নাজাশীর কাছ থেকে ফিরে এসে সলাতরত অবস্থায় তাঁকে সালাম করলে তিনি জবাব দিলেন না। এরপর তিনি বললেন, সলাতে অনেক ব্যস্ততা ও নিমগ্নতা রয়েছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সলাত এমন একটি ইবাদত যেখানে মনোযোগ দরকার। আগের আমল পরে পরিবর্তিত হয়েছে, এবং নবী صلى الله عليه وسلم তার কারণও বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাই সলাতে কথা বা সালামের জবাবের মতো বিষয় থেকে বিরত থাকা মনোযোগের সঙ্গে জড়িত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সলাতের সময় মনোযোগ ও নিমগ্নতা দরকার।
- নবী صلى الله عليه وسلم পরে সলাতে সালামের জবাব দেননি।
- ইবাদতের নিয়ম বদলালে সাহাবীরা তা গ্রহণ করেছেন।
- সলাতের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে দূরে থাকা উচিত।
