৫/৭. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৩১২ - সলাতে কথা বলা নিষেধ
সালাতে কথা বলা নিষিদ্ধ এবং তা (কথা বলা)র বৈধতা রহিত হওয়া প্রসঙ্গে।
সলাতে কথা বলা নিষেধ: নামাজে নীরবতা ও একাগ্রতার হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৩১২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৩১২
حديث زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ: كُنَّا نَتَكَلَّمُ فِي الصَّلاَةِ، يُكَلِّمُ أَحَدُنَا أَخَاهُ فِي حَاجَتِهِ، حَتَّى نَزَلَتْ هذِهِ الآيَةُ ﴾حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا للهِ قَانِتِينَ﴿ فَأُمِرْنَا بِالسُّكُوتِ
যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা নবী (ﷺ)-এর সময়ে সালাতের মধ্যে কথা বলতাম। আমাদের যে কেউ তার সঙ্গীর সাথে নিজ দরকারি বিষয়ে কথা বলত।অবশেষে এ আয়াত নাযিল হল- “তোমরা তোমাদের সালাতসমূহের সংরক্ষণ কর ও নিয়মানুবর্তিতা রক্ষা কর; বিশেষ মধ্যবর্তী (আসর) সালাতে, আর তোমরা (সালাতে) আল্লাহ্র উদ্দেশে একাগ্রচিত্ত হও”- (আল-বাক্বারাহ্ঃ ২৩৮।তারপর থেকে আমরা সালাতে নীরব থাকতে আদিষ্ট হলাম।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৫: তাফসীর, অধ্যায় ৪৩, হাঃ ১২০০; মুসলিম, পর্ব ৫ : মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহের বর্ণনা, অধ্যায় ৭, হাঃ ৫৩৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৩১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সলাতের মধ্যে কথা বলার আগের অবস্থা এবং পরে নিষেধের কথা এসেছে। যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) বলেন, নবী صلى الله عليه وسلم-এর সময়ে তারা সলাতের মধ্যে কথা বলতেন। কেউ নিজের সঙ্গীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় বিষয়ে কথা বলত। এরপর আল-বাকারার আয়াত নাযিল হয়, যেখানে সলাতসমূহের হেফাজত, মধ্যবর্তী সলাতের গুরুত্ব এবং আল্লাহর সামনে একাগ্রভাবে দাঁড়ানোর কথা এসেছে। এরপর তাদের সলাতে নীরব থাকতে আদেশ করা হয়। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সলাত শুধু শরীরের কাজ নয়; এতে মনোযোগ, নীরবতা এবং আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভাব থাকতে হবে। তাই নামাজে কথা বলা নিষেধের হাদিস হিসেবে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সলাতের মধ্যে কথা বলা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে।
- আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সময় একাগ্রতা দরকার।
- আয়াত নাযিল হলে সাহাবীরা আমলে পরিবর্তন করেছেন।
- সলাতের হেফাজত মানে নিয়ম ও আদব বজায় রাখা।
