৬/১৭. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৪২৬ - রমজানে তাহাজ্জুদ ও বিতরের রাকআত
রাতের সালাত, নবী (ﷺ)-এর রাতের সালাতের সংখ্যা এবং বিতরের সালাত এক রাকাত ও এক রাকাত সালাত সহীহ।
রমজানে তাহাজ্জুদ নামাজ: এগার রাকআত ও বিতরের শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৪২৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৪২৬
حديث عَائِشَةَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمنِ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ، كيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ: مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَزِيدُ [ص: 143] فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا قَالَتْ عَائِشَةُ: فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ فَقَالَ: يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي
আবূ সালামাহ্ ইবনু 'আবদুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, রমজান মাসে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সালাত কেমন ছিল? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রমজান মাসে এবং অন্যান্য সময় (রাতের বেলা) এগার রাকাতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। তিনি চার রাকাত সালাত আদায় করতেন। তুমি সেই সালাতের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। তারপর চার রাকাত সালাত আদায় করতেন, এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। অতঃপর তিনি তিন রাকাত (বিত্র) সালাত আদায় করতেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, (একদিন) আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি বিত্রের পূর্বে ঘুমিয়ে থাকেন? তিনি ইরশাদ করলেনঃ আমার চোখ দুইটি ঘুমায়, কিন্তু আমার হৃদয় ঘুমায় না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ১৯; তাহাজ্জুদ, অধ্যায় ১৬, হাঃ ১১৪৭; মুসলিম, পর্ব ৬; মুসাফির ব্যক্তির সালাত ও তা কসর করার বর্ণনা, অধ্যায় ১৭, হাঃ ৭৩৮
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৪২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমজানের রাতের সালাত এবং তাহাজ্জুদ নামাজের রাকআত সম্পর্কে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর জবাব এসেছে। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল صلى الله عليه وسلم রমজান মাসে এবং অন্য সময় রাতে এগার রাকআতের বেশি সালাত আদায় করতেন না। তিনি চার রাকআত পড়তেন—তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা নিয়ে প্রশ্ন করতে নিষেধ করেছেন, অর্থাৎ তা ছিল খুব সুন্দর ও দীর্ঘ। এরপর আরও চার রাকআত পড়তেন, তারপর তিন রাকআত বিতর আদায় করতেন। এখানে রাকআত সংখ্যার সঙ্গে সালাতের মান, মনোযোগ ও দীর্ঘতার দিকও বোঝা যায়। ‘আমার চোখ ঘুমায়, কিন্তু হৃদয় ঘুমায় না’—এ কথাটি নবী صلى الله عليه وسلم-এর বিশেষ অবস্থা হিসেবে এসেছে। তাই এই হাদিস থেকে সাধারণ মানুষ নিজের জন্য বিনয়ী শিক্ষা নেবে, অতিরিক্ত দাবি করবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজান ও অন্য সময়ে নবী صلى الله عليه وسلم রাতের সালাতে এগার রাকআতের কথা বর্ণিত হয়েছে।
- সালাতের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ হয়েছে।
- তিন রাকআত বিতর এই বর্ণনার অংশ।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর বিশেষ অবস্থা সাধারণ মানুষের সঙ্গে তুলনা করার বিষয় নয়।
