১০/১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫২০ - সূর্যগ্রহণের সালাত ও আল্লাহর নিদর্শন
সূর্য গ্রহণের সালাত।
সূর্যগ্রহণের সালাত: সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৫২০
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৫২০
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: خَسَفَتِ الشَّمْسُ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّاسِ، فَقَامَ فأَطَالَ الْقِيَامَ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ، ثُمَّ قَامَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ، وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ، ثُمَّ سَجَدَ فَأَطَالَ السُّجُودَ، ثُمَّ فَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ مَا فَعَلَ فِي الأُولَى، ثُمَّ انْصَرَفَ وَقَدِ انْجَلَتِ الشَّمْسُ، فَخَطَبَ النَّاسَ، فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آياتِ اللهِ، لاَ يَنْخَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذلِكَ فَادْعُوا اللهَ وَكَبِّرُوا وَصَلُّوا وَتَصَدَّقُوا ثُمَّ قَالَ: يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ مَا مِنْ أَحَدٍ أَغْيَرُ مِنَ اللهِ أَنْ يَزْنِىَ عَبْدُهُ أَوْ تَزْنِىَ أَمَتُهُ، يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ وَاللهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلاً وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ হল। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি দীর্ঘ সময় কিয়াম করেন, অতঃপর দীর্ঘক্ষণ রুকূ‘ করেন। অতঃপর পুনরায় (সালাতে) তিনি উঠে দাঁড়ান এবং দীর্ঘ কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়াম চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি রুকূ‘ করেন এবং এ রুকূ‘ও দীর্ঘ করেন। তবে তা প্রথম রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা করেন এবং সিজদাও দীর্ঘক্ষণ করেন। অতঃপর তিনি প্রথম রাকা‘আতে যা করেছিলেন তার অনুরূপ দ্বিতীয় রাকা‘আতে করেন এবং যখন সূর্য প্রকাশিত হয় তখন সালাত শেষ করেন।অতঃপর তিনি লোকজনের উদ্দেশে খুত্বা দান করেন। প্রথমে তিনি আল্লাহ্র প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহ্র নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুইটি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা আল্লাহ্র নিকট দু‘আ করবে। তাঁর মহত্ব ঘোষণা করবে এবং সালাত আদায় করবে ও সাদাকা প্রদান করবে।অতঃপর তিনি আরো বললেনঃ হে উম্মাতে মুহাম্মদী! আল্লাহ্র কসম, আল্লাহ্র কোন বান্দা যিনা করলে কিংবা কোন নারী যিনা করলে, আল্লাহ্র চেয়ে অধিক অপছন্দকারী কেউ নেই। হে উম্মাতে মুহাম্মাদী! আল্লাহ্র কসম, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তাহলে তোমরা অবশ্যই কম হাসতে এবং বেশী করে কাঁদতে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ১৬ : সূর্য গ্রহণ, অধ্যায় ২, হাঃ ১০৪৪; মুসলিম, পর্ব ১০ : সূর্য গ্রহণের সালাত, অধ্যায় ১, হাঃ ৯০১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সূর্যগ্রহণের সালাত এবং গ্রহণের সময় করণীয়। আয়িশা (রাঃ) বলেন, নবী صلى الله عليه وسلم-এর সময়ে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি লোকদের নিয়ে দীর্ঘ সালাত আদায় করেন। কিয়াম, রুকু ও সিজদা দীর্ঘ ছিল, এবং দ্বিতীয় রাকআতেও অনুরূপভাবে আদায় করেন। সূর্য প্রকাশিত হলে তিনি সালাত শেষ করেন এবং খুতবা দেন। তিনি বলেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনের মধ্যে দুইটি নিদর্শন; কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। তাই গ্রহণ দেখলে আল্লাহর কাছে দোয়া করো, তাঁর মহত্ব ঘোষণা করো, সালাত আদায় করো এবং সদকা দাও। শেষে তিনি যিনা সম্পর্কে আল্লাহর অপছন্দ এবং আখিরাতের ভয় স্মরণ করান। এই হাদিস গ্রহণকে কুসংস্কারের সঙ্গে নয়, আল্লাহর নিদর্শন ও ইবাদতের সঙ্গে যুক্ত করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
- গ্রহণ কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না।
- গ্রহণ দেখলে দোয়া, তাকবীর, সালাত ও সদকার নির্দেশ এসেছে।
