১২/৯. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫৭৭ - তাওহীদ, দান ও জান্নাতের সুসংবাদ
সদকা দেয়ার জন্য উৎসাহ দান।
তাওহীদের ফজিলত ও সম্পদ ব্যয়: আবূ যার (রাঃ)-এর ঘটনা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৫৭৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৫৭৭
حديث أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: كُنْتُ أَمْشِي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَرَّةِ الْمَدِينَةِ عِشَاءً، اسْتَقْبَلَنَا أُحُدٌ؛ فَقَالَ: يَا أَبَا ذَرٍّ مَا أُحِبُّ أَنَّ أُحُدًا لِي ذَهَبًا، يَأْتِي عَلَيَّ لَيْلَةٌ أَوْ ثَلاَثٌ عِنْدِي مِنْهُ دِينَارٌ إِلاَّ أَرْصُدُهُ لِدَيْنٍ، إِلاَّ أَنْ أَقُولَ بِهِ فِي عِبَادِ اللهِ هكَذَا وَهكَذَا وَهكَذَا وَأَرَانَا بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ: يَا أَبَا ذَرٍّ قُلْتُ: لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: الأَكْثَرُونَ هُمُ الأَقَلُّونَ إِلاَّ مَنْ قَالَ هكَذَا وَهكَذَا، ثُمَّ قَالَ لِي: مَكَانَكَ، لاَ تَبْرَحْ يَا أَبَا ذَرٍّ حَتَّى أَرْجِعَ فَانْطَلَقَ حَتَّى غَابَ عَنِّي، فَسَمِعْتُ صَوْتًا، فَخَشِيتُ أَنْ يَكُونَ عُرِضَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَرَدْتُ أَنْ أَذْهَبَ، ثُمَّ ذَكَرْتُ قَوْلَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ تَبْرَحْ، فَمَكُثْتُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ سَمِعْتُ صَوْتًا خَشِيتُ أَنْ يَكُونَ عُرِضَ لَكَ، ثُمَّ ذَكَرْتُ قَوْلَكَ، فَقُمْتُ؛ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ذَاكَ جِبْرِيلُ، أَتَانِي فَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لاَ يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ قَالَ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ
যায়দ ইবনু ওয়াহ্ব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র কসম! আবূ যার (রাঃ) 'রাবাযাহ' নামক স্থানে আমাদের কাছে বর্ণনা করেন যে, একদা আমি নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে এশার সময় মাদীনায় 'হাররা' নামক স্থান দিয়ে পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। তখন আমরা উহুদ পাহাড়ের সম্মুখীন হলে তিনি আমাকে বললেনঃ হে আবূ যার! আমি এটা পছন্দ করি না যে, আমার নিকট উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনা আসুক আর ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ব্যতীত এক দীনার পরিমাণ সোনাও এক রাত অথবা তিন রাত পর্যন্ত আমার হাতে থেকে যাক। বরং আমি পছন্দ করি যে, আমি এগুলো আল্লাহ্র বান্দাদের এভাবে বিলিয়ে দেই। (কিভাবে দেবেন) তা তাঁর হাত দিয়ে তিনি দেখালেন।অতঃপর বললেনঃ হে আবূ যার! আমি বললামঃ লাব্বাইকা ওয়া স‘দাইকা, হে আল্লাহ্র রাসূল! তখন তিনি বললেনঃ দুনিয়াতে যারা অধিক সম্পদশালী, আখিরাতে তারা হবেন অনেক কম সাওয়াবের অধিকারী। তবে যারা তাদের সম্পদকে এভাবে, এভাবে বিলিয়ে দেবে। তারা হবেন এর ব্যতিক্রম। অতঃপর তিনি আমাকে বললেনঃ আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত, হে আবূ যার! তুমি এ স্থানেই থাকো। এখান থেকে কোথাও যেয়ো না।এরপর তিনি রওয়ানা হয়ে গেলেন, এমনকি আমার চোখের আড়ালে চলে গেলেন। এমন সময় এটা শব্দ শুনলাম। এতে আমি শংকিত হয়ে পড়লাম যে, আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) কোন বিপদের সম্মুখীন হয়ে পড়লেন কিনা? তাই আমি সে দিকে অগ্রসর হতে চাইলাম। কিন্তু সাথে সাথেই আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর নিষেধাজ্ঞা যে কোথায়ও যেয়ো না মনে পড়লো এবং আমি থেমে গেলাম।এরপর তিনি ফিরে আসলে আমি বললামঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি একটা আওয়ায শুনে শংকিত হয়ে পড়লাম যে, আপনি সেখানে গিয়ে কোন বিপদে পড়লেন কিনা। কিন্তু আপনার কথা স্মরণ করে থেমে গেলাম। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ)। তিনি আমার নিকট এসে সংবাদ দিলেন যে, আমার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক না করে মারা যাবে, সে বেহেশ্তে প্রবেশ করবে। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! যদিও সে ব্যক্তি ব্যভিচার করে? যদিও সে ব্যক্তি চুরি করে? তিনি বললেনঃ সে যদিও ব্যভিচার করে, যদিও চুরি করে থাকে তবুও।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৯ : অনুমতি প্রার্থনা, অধ্যায় ৩, হাঃ ৬২৬৮; মুসলিম, পর্ব ১২ : যাকাত, অধ্যায় ৯, হাঃ ৯৯৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫৭৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুটি বড় শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে: সম্পদ ব্যয় এবং তাওহীদের ফজিলত। নবী صلى الله عليه وسلم আবূ যার (রাঃ)-কে বললেন, উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনা থাকলেও ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছাড়া তা নিজের কাছে রাখতে তিনি পছন্দ করেন না; বরং আল্লাহর বান্দাদের মাঝে বিলিয়ে দিতে পছন্দ করেন। এরপর তিনি বলেন, দুনিয়ায় অধিক সম্পদশালীরা আখিরাতে কম সাওয়াবের অধিকারী হবে, তবে যারা এভাবে ব্যয় করে তারা ব্যতিক্রম। পরে জিবরীল (আঃ)-এর মাধ্যমে খবর আসে: যে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হাদিসে পাপকে অনুমোদন করা হয়নি; বরং শিরকমুক্ত ঈমানের বড় সুসংবাদ এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদ থাকলে তা আল্লাহর বান্দাদের জন্য ব্যয় করা প্রশংসনীয়।
- অধিক সম্পদশালী হওয়া দায়িত্ব ও পরীক্ষার বিষয়।
- আবূ যার (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ মেনে নিজের স্থানে থেকেছেন।
- শিরকমুক্ত ঈমানের বড় সুসংবাদ হাদিসে এসেছে।
