১৩/৩৫. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭২১ - দাঊদের সাওম ও নফল রোজার ভারসাম্য

সাওম দাহর (একাধারে এক যুগ) সাওম করা ঐ ব্যক্তির জন্য নিষিদ্ধ, যার এর মাধ্যমে ক্ষতি হবে অথবা এর মাধ্যমে অন্যের হক নষ্ট হবে অথবা দুই ঈদে সাওম ভঙ্গ না করা এবং তাশরীকের দিনগুলোতে সাওম ভঙ্গ না করা এবং একদিন বিরতি দিয়ে সাওম করার ফাযায়েল।

দাঊদের সাওম: নফল রোজায় ভারসাম্যের শিক্ষা

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৭২১

حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، حَدَّثَ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذُكِرَ لَهُ صَوْمِي، فَدَخَلَ عَلَيَّ، فَأَلْقَيْتُ لَهُ وِسَادَةً مِنْ أَدَمٍ، حَشْوُهَا لِيفٌ، فَجَلَسَ عَلَى الأَرْضِ، وَصَارَتِ الْوِسَادَةُ بَيْنِي وَبَيْنَهُ؛ فَقَالَ: أَمَا يَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ قَالَ، قُلْتُ: [ص: 24] يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: خَمْسًا قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: سَبْعًا قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: تِسْعًا قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: إِحْدَى عَشْرَةَ ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ صَوْمَ فَوْقَ صَوْمِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ، شَطرَ الدَّهْرِ، صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট আমার সাওমের (সাওম পালনের পদ্ধতি সম্পর্কে) আলোচনা করায় তিনি আমার এখানে আগমন করেন। আমি তাঁর জন্য খেজুরের গাছের ছালে পরিপূর্ণ চামড়ার বালিশ (হেলান দিয়ে বসার জন্য) উপস্থিত করলাম। তিনি মাটিতে বসে পড়লেন। বালিশটি তাঁর ও আমার মাঝে পড়ে থাকল।তিনি বললেনঃ প্রতি মাসে তুমি তিন দিন সাওম পালন করলে হয় না? ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! (আরো করতে সক্ষম)। তিনি বললেনঃ পাঁচ দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! (আরো করতে সক্ষম)। তিনি বললেনঃ সাত দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! (আরো করতে সক্ষম)। তিনি বললেনঃ নয় দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! (আরো করতে সক্ষম)। তিনি বললেনঃ এগারো দিন। এরপর নবী (ﷺ) বললেন, দাঊদ (‘আঃ)-এর সাওমের চেয়ে উত্তম সাওম আর হয় না (তা হচ্ছে) অর্ধেক বছর, একদিন সাওম পালন কর ও একদিন ছেড়ে দাও।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩০: সওম, অধ্যায় ৫৯, হাঃ ১৯৮০; মুসলিম, পর্ব ১৩; সওম, অধ্যায় ৩৫, হাঃ ১১৫৯

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭২১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নফল সাওমের ক্ষেত্রে ভারসাম্যের কথা খুব সহজভাবে এসেছে। আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর বেশি সাওম রাখার আগ্রহের কথা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি নিজে তাঁর কাছে আসেন। তিনি প্রথমে প্রতি মাসে তিন দিন সাওম রাখার পরামর্শ দেন। এরপর আবদুল্লাহ (রাঃ) আরো করার সক্ষমতা জানালে সাত, নয়, এগারো দিনের কথা বলেন। শেষে তিনি দাঊদ (আঃ)-এর সাওমকে উত্তম সাওম হিসেবে উল্লেখ করেন: একদিন সাওম রাখা, আর একদিন না রাখা। এখানে মূল শিক্ষা হলো—ইবাদতে আগ্রহ ভালো, কিন্তু শরীর, নিয়মিততা এবং ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ। নফল রোজা এমনভাবে রাখা উচিত, যাতে তা টেকসই হয় এবং মানুষ অতিরিক্ত চাপে না পড়ে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নফল সাওমে আগ্রহ রাখা ভালো, তবে তা ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া দরকার।
  • প্রতি মাসে তিন দিন সাওম রাখাও একটি সহজ ও সুন্দর আমল হিসেবে এসেছে।
  • দাঊদ (আঃ)-এর সাওম হলো একদিন রোজা রাখা এবং একদিন না রাখা।
  • ইবাদতে নিজের সক্ষমতা বিবেচনা করা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন