১৪/২. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭২৯ - ই‘তিকাফে নিয়ত ও আন্তরিকতার শিক্ষা
যে ব্যক্তি ইতিকাফ করার ইচ্ছে করল সে কখন ইতিকাফ করার স্থানে প্রবেশ করবে।
ই‘তিকাফে আন্তরিকতা: তাঁবুর ঘটনার শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৭২৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৭২৯
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْتَكِفُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ، فَكُنْتُ أَضْرِبُ لَهُ خِبَاءً، فَيُصَلِّي الصُّبْحَ، ثُمَّ يَدْخُلُهُ؛ فَاسْتَأْذَنَتْ حَفْصَةُ عَائِشَةَ أَنْ تَضْرِبَ خِبَاءً، فَأَذِنَتْ لَهَا فَضَرَبَتْ خِبَاءً؛ فَلَمَّا رَأَتْهُ زَيْنَبُ ابْنَةُ جَحْشٍ ضَرَبَتْ خِبَاءً آخَرَ؛ فَلَمَّا أَصْبَحَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى الأَخْبِيَةَ، فَقَالَ: مَا هذَا فَأُخْبِرَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: آلْبِر تُرَوْنَ بِهِنَّ فَتَرَكَ الاعْتِكَافَ ذلِكَ الشَّهْرَ، ثُمَّ اعْتَكَفَ عَشْرًا مِنْ شَوَّالٍ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রমজানের শেষ দশকে নবী (ﷺ) ইতিকাফ করতেন। আমি তাঁর তাঁবু তৈরি করে দিতাম। তিনি ফজরের সালাত আদায় করে তাতে প্রবেশ করতেন। (নবী-সহধর্মিণী) হাফসাহ্ (রাঃ) তাঁবু খাটাবার জন্য ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলে হাফসাহ্ (রাঃ) তাঁবু খাটালেন। (নবী-সহধর্মিণী) যায়নাব বিনতু জাহশ (রাঃ) তা দেখে আরেকটি তাঁবু তৈরি করলেন। সকালে নবী (ﷺ) তাঁবুগুলো দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এগুলো কী? তাঁকে জানানো হলে তিনি বললেনঃ তোমরা কি মনে কর এগুলো দিয়ে নেকী হাসিল হবে? এ মাসে তিনি ইতিকাফ ত্যাগ করলেন এবং পরে শাওয়াল মাসে দশ দিন (কাযা স্বরূপ) ইতিকাফ করেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩৩ : ইতিকাফ, অধ্যায় ৬, হাঃ ২০৩৩; মুসলিম, পর্ব ১৪ : ইতিকাফ, অধ্যায় ২, হাঃ ১১৭৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমাযানের শেষ দশকে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ই‘তিকাফের সময়ের একটি ঘটনা এসেছে। আয়িশাহ (রাঃ) তাঁর জন্য তাঁবু তৈরি করতেন। পরে হাফসাহ (রাঃ) অনুমতি নিয়ে তাঁবু খাটান, আর যায়নাব বিনতু জাহশ (রাঃ) আরেকটি তাঁবু তৈরি করেন। সকালে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁবুগুলো দেখে জানতে চান, এগুলো কী। তাঁকে জানানো হলে তিনি বলেন, তোমরা কি মনে কর এগুলো দিয়ে নেকী হাসিল হবে? এরপর তিনি সেই মাসে ই‘তিকাফ ত্যাগ করেন এবং পরে শাওয়াল মাসে দশ দিন ই‘তিকাফ করেন। এই হাদিসে ই‘তিকাফের বাহ্যিক আয়োজনের চেয়ে ভেতরের উদ্দেশ্য ও আন্তরিকতার গুরুত্ব ফুটে ওঠে। তবে ব্যাখ্যা হাদিসের ঘটনার সীমার মধ্যেই রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ই‘তিকাফে বাহ্যিক আয়োজনের চেয়ে আন্তরিক উদ্দেশ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) কোনো কাজে নেকীর উদ্দেশ্য ঠিক আছে কি না, তা খেয়াল করতেন।
- সেই মাসে ই‘তিকাফ না করে পরে শাওয়ালে দশ দিন ই‘তিকাফ করেছেন।
- ইবাদতে প্রতিযোগিতা থাকলেও তা নিয়ত ও শুদ্ধতার সঙ্গে হওয়া উচিত।
