১৫/৮. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭৪৩ - মুহরিমের জন্য শিকারের গোশত খাওয়া
মুহরিম ব্যক্তির জন্য শিকার করা হারাম।
মুহরিমের জন্য শিকারের গোশত: আবূ কাতাদাহ রাঃ-এর ঘটনা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৭৪৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৭৪৩
حديث أَبِي قَتَادَةَ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْقَاحَةِ، وَمِنَّا الْمُحْرِمُ وَمِنَّا غَيْرُ الْمُحْرِمِ، فَرَأَيْتُ أَصْحَابِي يَتَرَاءَوْنَ شَيْئًا، فَنَظَرْتُ فَإِذَا حِمَارُ وَحْشٍ، يَعْنِي؛ فَوَقَعَ سَوْطُهُ، فَقَالُوا لاَ نُعِينُكَ عَلَيْهِ بِشَيْءٍ إِنَّا مُحْرِمُونَ، فَتَنَاوَلْتُهُ فَأَخَذْتُهُ، ثُمَّ أَتَيْتُ الْحِمَارَ مِنْ وَرَاءِ أَكَمَةٍ فَعَقَرْتُهُ، فَأَتَيْتُ بِهِ أَصْحَابِي، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: كُلُوا وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لاَ تَأْكُلُوا فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ أَمَامَنَا فَسَأَلْتُهُ، فَقَالَ: كُلُوهُ، حَلاَلٌ
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মাদীনাহ হতে তিন মারহালা দূরে অবস্থিত 'কাহা' নামক স্থানে আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। নবী (ﷺ) ও আমাদের কেউ ইহরামধারী ছিলেন আর কেউ ছিলেন ইহরামবিহীন। এ সময় আমি আমার সাথী সাহাবীদেরকে দেখলাম তাঁরা একে অন্যকে কিছু দেখাচ্ছেন। আমি তাকাতেই একটি বন্য গাধা দেখতে পেলাম। (রাবী বলেন) এ সময় তাঁর চাবুকটি পড়ে গেল। (তিনি আনিয়ে দেয়ার কথা বললে) সকলেই বললেন, আমরা মুহরিম। তাই এ কাজে আমরা তোমাকে সাহায্য করতে পারব না।অবশেষে আমি নিজেই তা উঠিয়ে নিলাম, এরপর টিলার পিছন দিক হতে গাধাটির কাছে এসে তা শিকার করে সাহাবীদের কাছে নিয়ে আসলাম। তাঁদের কেউ বললেন, খাও, আবার কেউ বললেন, খেয়ো না। সুতরাং গাধাটি আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে আসলাম। তিনি আমাদের সকলের আগে ছিলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ খাও, এতো হালাল।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৮ : ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলী, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৮২৩; মুসলিম, পর্ব ১৫ : হাজ্জ, অধ্যায়, হাঃ ১১৯৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো মুহরিম ব্যক্তি শিকার করা প্রাণীর গোশত খেতে পারবে কি না। আবূ কাতাদাহ রাঃ তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন না, কিন্তু তাঁর সাথীদের কেউ কেউ মুহরিম ছিলেন। তারা একটি বন্য গাধা দেখলেও মুহরিম হওয়ার কারণে শিকারে তাঁকে সাহায্য করেননি। এমনকি তাঁর চাবুক পড়ে গেলে সেটিও তুলে দিতে তারা রাজি হননি, কারণ তারা বলেছিলেন, আমরা মুহরিম। পরে আবূ কাতাদাহ রাঃ নিজেই প্রাণীটি শিকার করেন। সাহাবীদের মধ্যে কেউ খেতে বললেন, কেউ না খেতে বললেন। বিষয়টি নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে নেওয়া হলে তিনি বললেন, খাও, এটা হালাল। এই হাদিসে মূল দিকটি হলো, শিকারকারী ব্যক্তি মুহরিম ছিলেন না এবং মুহরিমরা তাকে সাহায্য করেননি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইহরাম অবস্থায় শিকারের কাজে সাহায্য করা থেকে সাহাবীরা বিরত ছিলেন।
- কোনো বিষয়ে দ্বিধা হলে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে জিজ্ঞেস করাই সাহাবীদের পথ ছিল।
- শিকারকারী মুহরিম না হলে এবং মুহরিমরা সাহায্য না করলে গোশত খাওয়ার বিষয়টি আলাদা হতে পারে।
- দ্বীনের বিষয়ে অনুমান না করে নিশ্চিত জ্ঞান নেওয়া দরকার।
